Daffodil International College Teachers Blog by Nasreen Sultana (NS)

নিরাপদ খাদ্য ও সাম্প্রতিক সময়

নিরাপদ খাদ্য ও সাম্প্রতিক সময়

ঈশ্বর গুপ্তের বাণী- ‘ ভাত মাছ খেয়ে বাঁচে বাঙালি সকল।’ কিন্ত ভাত মাছ খেয়ে বেঁচে থাকার প্রয়াস বর্তমানে কঠিন হয়ে পড়েছে। কেননা আজকাল অসাধু ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ফায়দা লুটতে ইউরিয়া, ফরমালিন, কার্বাইড সহ বিভিন্ন কেমিক্যাল পদার্থ খাদ্যদ্রব্যে মিশিয়ে তা বিষে পরিণত করে ফেলছে।

হাট বাজার ঘুরেও কেমিক্যাল মুক্ত মাছ পাওয়া যায় না কোথাও। আগে পাইকারি আড়ৎ গুলিতে প্রকাশ্যে মাছের স্তুপে ফরমালিন বা কেমিক্যাল যুক্ত পানি স্প্রে করা হতো কিন্তু প্রশাসনের নজরদারিতে তা এখন কমে গেলেও অভিনব উপায়ে মাছে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। যেমন- বড় মাছ তাজা অবস্থায় ফরমালিন ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করা, ছোট মাছ ফরমালিন মিশ্রিত পানির ড্রামে চুবিয়ে তুলে ফেলা, ফরমালিন মিশ্রিত বরফ যা দেখতে হালকা বাদামি রঙের তা দিয়ে মাছকে চাপা দিয়ে রাখা ইত্যাদি।

বেকারীর কারখানায় খাবার সতেজ ও আকর্ষণীয় করার জন্য অতিরিক্ত পরিমাণ অ্যাডেটিভ পদার্থ, টেক্সটাইল রং সহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারে খাবার বিষাক্ত হয়ে পড়ে।

বাজারে এখন বিভিন্ন ফলের সমাহার যেমন:আম,জাম,কলা, পেঁপে পেয়ারা থেকে শুরু করে আপেল আঙ্গুর নাশপাতিসহ দেশী ও বিদেশী সব ফলই চোখে পড়ে। কিন্তু এই সব ফলই বিষে ভরা। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের জন্য ফল গাছে অপরিপক্ক থাকা অবস্থায় ইথিলিন ও ইথরিল হরমোন অতিমাত্রায় স্প্রে করা হয় এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয়। যারকারণে ফলগুলো রীতিমত  বিষে পরিণত হয়।তবে কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো ফলের সব অংশে সমান রং হবে এবং ফলের ভিতরের চামড়ার অংশে একটু তিতা হবে। এছাড়া ফলের এক অংশে টক অন্য অংশে মিষ্টি লাগবে।

আজকাল মুড়িতেও ইউরিয়া,হাইড্রোজ ব্যবহার করে লম্বা, সাদা ও আকর্ষণীয় করা হচ্ছে।এসব মুড়ির গায়ে অসংখ্য ছিদ্র থাকে, দেখতে খুব সাদা কিন্তু স্বাদ পানসে হয়ে যায়।

এসব ভেজাল- বিষাক্ত  খাদ্য  খেয়ে ক্যান্সার, কিডনি – লিভার বিকল হয়ে যাওয়া  সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের ‘বিষাক্ত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি’ শীর্ষক সেমিনারে বলা হয়, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ লোক ক্যান্সারে, ডায়াবেটিস রোগে ১ লাখ ৫০হাজার, কিডনি রোগে ২ লাখ লোক আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া গর্ভবতী মায়ের শারীরিক জটিলতা সহ গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। সুতরাং এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গণ সচেতনতা ও দরকার।

Formalin in Food
Formalin in Food

আমরা  কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে খাদ্যদ্রব্যকে কেমিক্যাল মুক্ত করতে পারি।যেমন – মাছ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজেই ফরমালিন মুক্ত করা যায়।মাছ কিনে এনে খুব ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে এর পর প্রায় এক ঘণ্টা তাকে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা পানির প্রভাবে মাছের শরীরের ফরমালিন কিছুটা বেরিয়ে যায়।এর পর লবণ পানি তৈরি করে তাতে কিছুক্ষণের জন্য ভিজিয়ে রাখুন মাছ। লবণ মাছের শরীরের ক্ষতিকর রাসায়নিককে সহজেই বের করে আনে।

এছাড়া প্রথমেই চাল ধোয়া পানি দিয়ে ধুয়ে নিন মাছ। তার পর সাধারণ পানি দিয়ে ডুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এতে সহজেই ফরমালিন সরে যাবে। 

ফল ও সবজিকে ফরমালিনমুক্ত করার সব চাইতে ভালো পদ্ধতি হলো- ভিনেগার ও পানির মিশ্রণে (পানিতে ১০% আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখা। এতে প্রায় ১০০ ভাগ ফরমালিন দূর হয়।

এছাড়া ফলমূল খাবার আগে সেটি হালকা গরম এবং লবণ মিশ্রিত পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে করে ফরমালিনের পরিমাণ প্রায় ৯৮ শতাংশ দূর হবে।

আশা করি এসব ঘরোয়া টিপস অনুসরণ করলে আমাদের কিছুটা উপকার হবে। পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করণে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষের নজরদারি আরও কঠোর ও বিস্তৃত করতে হবে।

তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক যুগান্তর

নাসরীন সুলতানা

প্রভাষক (রসায়ন বিভাগ)

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

Daffodil International College Teachers Blog by rakib Mojumder (MH) Sir

আদর্শ শিক্ষক- আলোর পথের দিশারী

আদর্শ শিক্ষক- আলোর পথের দিশারী

একজন আদর্শ শিক্ষক সঠিক পথের দিশারী, পথ পরিদর্শক এবং আলোর পথের পথ প্রদর্শক। তাঁর দূরদর্শীতা, আকর্ষণীয় সুন্দর ব্যক্তিত্ব, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মূল্যবোধ, চৌকষ ও কৌশলী ভূমিকা শিক্ষার্থীর শিখন প্রক্রিয়ায়, জ্ঞান অন্বেষণে, মেধার বিকাশ ও উন্নয়নে, চরিত্র গঠনে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে থাকে।

একজন নীতিবান ও বিবেকবান আদর্শ শিক্ষকের ছোঁয়ায় যেমনটি শিক্ষার্থীর মানসম্মত সুশিক্ষা সুনিশ্চিত হয় তেমনি শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলী, মানসিক উৎকর্ষ সাধন এবং মননের সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

আদর্শ শিক্ষকের কথা ও কাজের মধ্যে থাকে এক অপূর্ব মেলবন্ধন সমীকরণ। তাঁর আচার-ব্যবহার শিক্ষার্থীদের আদর্শবোধে উজ্জীবিত ও উদ্বুদ্ধ করে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সাহস সঞ্চার হয় এবং শিক্ষার্থীরা চরম ও পরমভাবে অনুপ্রাণিত হয়। সর্বোপরি, আদর্শ শিক্ষকের সীমাহীন উৎসাহ পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের সব ভয়কে জয় করে সাফল্যের চূড়ায় উঠতে পারে এবং নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আদর্শ শিক্ষকের মৌলিক মানবীয় গুণাবলী, অনুপম চারিত্রিক মাধুর্য, বুদ্ধিদীপ্ত উচ্চ নৈতিকতাসম্পন্ন জ্ঞান, সহযোগিতার মনোভাব, কর্তব্যনিষ্ঠা ও চিত্তাকর্ষক ব্যক্তিত্ব শিক্ষার্থীর মনে দাগ কাটে। যার ফলে শিক্ষার্থীর সাথে শিক্ষকের আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যকার এই সম্পর্ক এক অনাবিল, আদর্শিক ও যুগপৎ সম্পর্ক।

যেখানে মৌলিক কোন চাওয়া-পাওয়ার বিষয় সংযুক্ত থাকেনা, থাকে পরস্পরের প্রতি এক অকৃত্রিম ভালোবাসা ও অবিরাম শুভকামনা।

পরিশেষে, সকল আদর্শ শিক্ষকমন্ডলীর প্রতি রইল সশ্রদ্ধ সালাম, বিনম্র শ্রদ্ধা ও নিরন্তর ভালোবাসা।

ধন্যবাদান্তে
রাকিব মজুমদার
সিনিয়র প্রভাষক,
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, ঢাকা।

Daffodil International College Sanchita Nargees Blog

Importance of Co-curricular Activities to build up Self-confidence.

Importance of Co-curricular Activities to build up Self-confidence:

“These activities are the ones,

                                          That build values in life,

                                          These are the ones,

                                          Can’t be taught in class,

                                         Can only be an experienced.

                                         Participating in these activities,

                                         You develop feelings for fellow beings,

                                         And install confidence in life.

                                         These activities make you smart and wise.

                                         Help you to strengthen your base fiber life,

                                         Open your arms, come one and all,

                                          Participate in college social life.”

In the 21st century, the world is changing fast. That is why, the conventional education curriculum which was developed in the early 20th century, has to pave the way to a new kind of education and learning which is related to our day to day living and plays a vital role to build up career and personality. Co-curricular activities are different from academic activities. It is true that much of our intellectual development happens, to a great extent, in the classroom but it is not enough to survive in life.  Students can participate in co-curricular activities besides their academic activities. These activities give unique experience of life, these activities make one smart and wise. These activities encourage to expose hidden talents. It helps to the students to become aware of time management and more responsible. It helps the learners to be confident, problem solving and reasoning. When these activities blended with academics, it will help the students learn  effectively. It will also give them an opportunity of thinking unusually and getting the innovative ideas and above all to be self-dependent.

There are many co-curricular activities like- debate, recitation, singing songs, dancing, public speaking, extempore speech, library work, social service etc. These are the activities through which a learner can strengthen the classroom learning as well as other activities both inside and outside the classroom.

The students who engage themselves in these co-curricular activities, can achieve better results in their academic ground. Their academic performance develop day by day as they learn how to balance their co-curricular activities with their academic pursuits. Moreover, they better understand how to manage their time effectively and also increase their interest in the classroom. So, it is essential to understand the importance of co-curricular activities in improving academic performance. In other words, co-curricular activities enable a learner to digest his academic studies and make him/her to be confident in every sphere of practical life. In this competitive era, co-curricular activities also play a vital role to build up a better career for the learners. Because it broadens new horizons for them. It makes the students feel happier, stronger, confident and more likely to lead a healthy and active life style.

Now we are passing a very critical situation. In a normal situation, Pre Covid-19, all extracurricular activities for the students took place in academic environment. Though it is not possible in this current pandemic situation, students can involve themselves virtually in many  co-curricular activities. And it helps them to be fit mentally removing their mental stress. In this connection, Virtual club activities can be implemented during the pandemic. Through Google meet or Zoom, students can participate in interactive session where they can share their experience and receive suggestion from the experts. Now at this moment, they can more involve in many indoor activities like crafts, creative writings, gardening, graphic designs etc.

By the above discussion, we can say that the students engaging through co-curricular activities can learn essential values about different religions, events, cultures of national and international importance as well as discipline. They also learn to understand different values, social ethics, motivational skills, capability of  accepting  challenges, self-dependent, self-contentment etc. In order to make the new generation all-rounder and self-reliant, co-curricular activities should be integrated in educational sector compulsorily.

-Sanchita Nargees

Sr. Lecturer

Daffodil International College

Daffodil International College Blog(Zarka Sultana)_DIC

BOOK REVIEW: “RICH DAD POOR DAD”

BOOK REVIEW: “RICH DAD POOR DAD”

কয়েকদিন ধরে একটি বই পড়ে শেষ করলাম। বইটি হলো”রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড “লিখেছেন রবার্ট টি কিয়োসাকি। এই কোভিড-১৯ এর সময়ে বইটির অনেক মূল্যবান বিষয় আছে যা সবার জানা দরকার। বইটিতে যা আলোচনা করা হয়েছে তা সাধারণত আমরা স্কুল কলেজে শিখি না। অথচ একজন মানুষ আমি বলবো সফল হবার উচ্চাকাঙখা আছে তার এই বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন।

Rich Dad Poor Dad
Rich Dad Poor Dad

বইটিতে অর্থ নিয়ে ২টি দৃষ্টিভঙ্গি আছে। ১টি “অর্থের প্রতি ভালোবাসাই সমস্ত নষ্টের মূল❞। অন্যটি
❝অর্থ যথেষ্ট না থাকাই সমস্ত অনিষ্টের কারণ❞।

লেখক এই ২টি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিস্তর চিন্তাভাবনা করতে লাগলেন এবং এক পর্যায়ে মুল্যবান অন্তর্দৃষ্টি লাভ করলেন।

তিনি বুঝলেন ❝আমার এইটা করার সামর্থ নেই❞। এই কথাটি ব্রেইন কে না দিয়ে ❝আমার কী ভাবে এটা করার সামর্থ তৈরি হবে❞ ব্রেইনকে সেই বিষয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করাতে হবে। লেখক দেখিছেন- ❝আমার করার সামর্থ নেই❞ এই কথাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলতে থাকলে তোমার ব্রেইন বা মগজ কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
আর যদি নিজেকে বলো -❝আমার কী ভাবে এটা করার সামর্থ হবে❞, তখন তোমার মগজকে কাজের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হবে।

এটা বিশ্বাস করতে হবে, অভ্যাসবশত ❝আমার করার ক্ষমতা নেই❞ বলা একটা মানসিক আলস্যের লক্ষণ।
সঠিক শারীরিক ব্যায়াম স্বাস্থের উন্নতির সুযোগ দেয়। আলসেমি স্বাস্থ্য ও ধন-সম্পত্তি দুটিই ক্ষতি করে।

এই বইটিতে আরো আলোচিত হয়েছে যে,
❝অর্থ একধরনের ক্ষমতা❞। কিন্তু আরো ক্ষমতাশালী হচ্ছে, ❝আর্থিক বিষয়ে শিক্ষা❞। অর্থাৎ, অর্থ অর্জন করলেই হবে না, অর্থের উপরে কর্তৃত্ত্ব করতে শিখতে হবে।

-জীবন তোমাকে নিরন্তন ধাক্কা দিয়ে যাবে। কেউ জীবনের এই ধাক্কাগুলো সহ্য করে যায়, কেউ রেগে গিয়ে পাল্টা ধাক্কা মারে। আসলে জীবন আমাদের সবাইকে চারদিক থেকে ধাক্কা মারে। এক্ষেত্রে কেউ হাল ছেড়ে দেয়, অন্যেরা লড়াই করে।

আমাদের জীবনের এই ধাক্কাকে স্বাগত জানাতে হবে, লড়াই করতে হবে। মনে রাখতে হবে-
তুমি ভীষণভাবে জিততে চেয়েছো।। মনের গভীরে জেতার উত্তেজনা থাকলে তুমি জিতবে।
অবশ্যই জিতবে।।

জারকা সুলতানা

ভাইস প্রিন্সিপাল

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

Daffodil College Alumni student Shuaib Hassan success story (DIC)

ঢাবি এবং জাবি দুটোতেই চান্স পাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা সুয়াইব হাসানের

আমি সুয়াইব হাসান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। আমার জন্ম নরসিংদীতে। সেখানেই বেড়ে উঠা। শিক্ষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় শৈশব থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং পারিবারিক পৃষ্ঠপোষকতা দুটোই ছিলো। জেএসসিতে দুর্দান্ত রেজাল্টের পর পরিবারের প্রত্যাশার পারদও চূড়ায় উঠে। তবে প্রত্যেকটি মানুষের জীবনেই কিছু ঘটনা থাকে যা তাকে বাস্তবতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, অনেক কিছু উপল‌দ্ধি করতে শেখায়। আমার জীবনে এইরকমই একটা ঘটনা হলো এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। জেএসসিতে ট্যালেন্টপুল এ বৃত্তি পাওয়া আমি SSC তে এ গ্রেড নিয়ে পাশ করলাম। পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী সবাইকে তো হতাশ করলামই আর নিজেকেও ফেললাম বাস্তবতার চরম পরীক্ষায়। পড়াশোনার এই বেহাল দশা দেখে আমার পরিবার আমাকে ঢাকায় ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিলো। বড় ভাই ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ছাত্র হওয়ার সুবাদে ভর্তি হলাম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে। 

শুরু হল যান্ত্রিকতার এই শহুরে জীবন। ঢাকার আবহাওয়া, মিরপুর রোডের জ্যাম আর পদার্থ -রসায়নের জটিলতায় প্রথম কয়েকটা মাস কিছুটা স্ট্রাগল করতে হল। তবে সব কিছুর সাথে আস্তে আস্তে মানিয়ে নিতে শুরু করলাম। কলেজ বিল্ডিং, মিরপুর রোড, নিউ মার্কেট সব কিছু আপন হতে শুরু করলো। সেইসাথে কলেজে জুটে গেলো বেশ ভালো কয়েকজন বন্ধু। টিচারদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গণিত-পদার্থের জট আস্তে আস্তে খুলতে লাগলো। তবে আজ কলেজ জীবনের দিকে তাকালে যেই জিনিসটা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে সেইটা হল “পত্রিকা পড়া।” তখন দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের সময়। কলেজে ঢোকার সাথে সাথেই পত্রিকা পড়তে শুরু করতাম। প্রথম পেইজ থেকে শুরু করে সম্পাদকীয়, কলাম, খেলাধুলা, আন্তর্জাতিক সবকিছু। এমনকি টিফিন টাইমেও ডুবে থাকতাম পত্রিকায় (এই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস টা এডমিশন টেস্টে দারুণ কাজে দিয়েছিলো)। মাঝে মাঝে ক্লাস ফাঁকি দিয়েও পত্রিকা পড়তাম। একদিন তো রসায়নের ম্যাম দেখে বলেই বসলেন “তুমি কি পত্রিকা পড়তে কলেজে আসো? “🤣🤣।

যাইহোক প্রথম বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা দিলাম। বিজ্ঞান বিভাগে কলেজে ২য় স্থান অধিকার করলাম। ততদিনে এই শহুরে জীবনের সাথে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু সামনে চলে এলো এক জটিল সমস্যা। একান্তই পারিবারিক হওয়ার সেটা বিস্তারিত আর না বলি। কিন্তু সেই সময় কলজে অথরিটি যদি পাশে না দাড়াতো তাহলে আমার শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাত ঘটার সমূহ সম্ভাবনা ছিলো। পারিবারিক সংকট পাশ কাটিয়ে আবার পড়াশোনার দিকে মনোযোগ দিলাম। কিন্তু জৈব রসায়ন আর ইন্টিগ্রেশন এর চাপে পড়াশোনাও অনেক কঠিন মনে হতে লাগলো। কলেজ থেকে কোচিং এর ব্যাবস্থা করা হলো। স্যার – ম্যামরা তদের সর্বোচ্চ টুকু দিয়ে চেষ্টা করলেন। আমিও আমার সাধ্যমত চেষ্টা করলাম যথাসময়ে সিলেবাস শেষ করার। 

অবশেষে উনিশের এপ্রিলে এইচএসসি এক্সামে বসলাম। শিক্ষকবৃন্দের অক্লান্ত শ্রম, দোয়া আর নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় সম্মানজনক জিপিএ নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলাম। তারপর এডমিশন কোচিংয়ে ভর্তি হলাম। ঢাবি এবং জাবি এই দুইটি ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা দেই এবং আল্লাহর রহমতে দুইটিতেই চান্স পাই। পরবর্তীতে পছন্দের সাবজেক্ট নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। শুরু হয় জীবনের আরেকটি নতুন অধ্যায়।

২০১৯ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পন করি। নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ছাত্র হিসেবে শুরু করি ভার্সিটি লাইফ। যুক্ত হই সোসাইটি ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স, JU Chess Society, Jahangirnagar University Career Club, ধ্বনি সহ নানান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে।

তবে আজ এই ভার্সিটি জীবনের ব্যাস্ত সময়েও কলেজের স্মৃতি হরহামেশাই মনে পড়ে যায়। সেই কলেজ বিল্ডিং, ক্যাফেটেরিয়া, পেপার ডেস্ক সব কিছু যেনো এখনো আমাকে ভীষণ টানে।এই কলেজের সাথে মিশে আছে আমার জীবনের এক সংগ্রামী অধ্যায়, এইখান থেকেই পেয়েছি জ্ঞানচর্চার প্রতি এক ব্যাকুল আগ্রহ, পেয়েছি ইট পাথরের নগরে মানিয়ে চলার শিক্ষা।

অবশেষে  আল্লাহর কাছে প্রার্থনা -ভালো থাকুক আমার কলেজ, ভালো থাকুন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলী, আর ড্যাফোডিল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাফল্য, খ্যাতি, জ্ঞানের দ্যোতি ছড়িয়ে পড়ুক দেশ বিদেশ।

Mominul Huq (MH) Daffodil International College

পণপ্রথা ও তিনটি ছোটগল্প

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ – ১৯৪১) বাংলা ছোটগল্পের জনক এবং বাংলা ছোটগল্পের শ্রেষ্ঠ শিল্পী। তিনি শ-খানেক ছোটগল্প লিখে বাংলা ছোটগল্প-সাহিত্যকে করেছেন সমৃদ্ধ ও শিখরস্পর্শী। সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে, তিনি বিশ্বসেরা গল্পলেখকদের পঙক্তিভুক্ত হবার যোগ্য। সে-হিসেবে মার্কিন গল্পলেখক অ্যাডগার অ্যালেন পো (১৮০৯ – ১৮৪৯), ফরাসি গল্পলেখক গি দ্য মোপাসাঁ (১৮৫০- ১৮৯৩) ও রুশ গল্পলেখক আন্তন চেখভের (১৮৬০ – ১৯০৪) সঙ্গে তাঁর নামও স্মরণীয় হয়ে আছে। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘ভিখারিণী’ (১৮৭৪ খ্রি.) । তাঁর প্রথম সার্থক ছোটগল্প 

‘দেনা-পাওনা’ (১৮৯১)। গল্পটি কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য-সম্পাদিত সাপ্তাহিক  ‘হিতবাদী’ (১৮৯১) পত্রিকায় মুদ্রিত হয় এবং পরে যথাক্রমে ‘গল্পসপ্তক’ও গল্পগুচ্ছে (৩য় খণ্ড) সংগৃহীত হয়। এর দুই দশক পরে তিনি লিখেছেন ‘হৈমন্তী’ (১৯১৪) ও ‘অপরিচিতা’ (১৯১৪)। এগুলো প্রমথ চৌধুরী-সম্পাদিত  ‘সবুজপত্র’(১৯১৪) পত্রিকায় মুদ্রিত হয় এবং পরে গল্পগুচ্ছে সংগৃহীত হয়।    

এখানে আলোচ্য তিনটিই পণপ্রথাকেন্দ্রিক ছোটগল্প। বিষয়গত ঐক্য থাকলেও এগুলোতে আছে নানা পার্থক্য ও বৈচিত্র্য। তাছাড়া এগুলোতে আছে গল্পলেখকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের ছায়া। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে গল্পগুলোর একটা আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। 

‘দেনা-পাওনা’গল্পের গল্পকথক লেখক স্বয়ং। কিন্তু ‘হৈমন্তী’ও ‘অপরিচিতা’গল্পে গল্পবর্ণনা করেছে যথাক্রমে অপু ও অনুপম। এরা গল্পের নায়ক এবং গল্পকথক।  

‘অপরিচিতা’গল্পে অনুপম গল্পের শুরুতেই বর্ণনা দিচ্ছে, ‘আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র। এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যের হিসাবে বড়, না গুণের হিসাবে। তবু ইহার একটু বিশেষ মূল্য আছে। ইহা সেই ফুলের মতো যাহার বুকের উপরে ভ্রমর আসিয়া বসিয়াছিল, এবং সেই পদক্ষেপের ইতিহাস তাহার জীবনের মাঝখানে ফলের মতো গুটি ধরিয়া উঠিয়াছে।’     

‘হৈমন্তী’গল্পে অপু বর্ণনা দিচ্ছে, ‘আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহ সম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি, এফ. এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ, বরপক্ষ ও কন্যাপক্ষ ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।’  

‘দেনা-পাওনা’বালিকাবধূ নিরুপমা (নিরু) ও তার ঋণগ্রস্ত অসহায় বাবা রামসুন্দর মিত্রের গল্প। গল্পটির নাম-নির্বাচনে চরিত্র নয়, পণপ্রথাই প্রাধান্য পেয়েছে।  ‘হৈমন্তী’ গল্পের প্রধান আকর্ষণ হৈমন্তী। তার বাবা গৌরীশঙ্করবাবু ঋষিতুল্য। অপুর ভাষ্যমতে, হৈমন্তী এযুগের সীতা আর সে হচ্ছে রামচন্দ্র। অপুর খেদোক্তি, ‘বুকের রক্ত দিয়া আমাকে যে একদিন দ্বিতীয় সীতা বিসর্জনের কাহিনী লিখিতে হইবে সে-কথা কে জানিত।’          

‘অপরিচিতা’গল্পের প্রধান আকর্ষণ কল্যাণী। সে-ই (কল্যাণীই) অনুপম ও তার তীর্থযাত্রী মায়ের কাছে অপরিচিতা ও রহস্যময়ী এক তরুণী, যে রেলগাড়িতে কিছুক্ষণের জন্য চোখের সামনে এসে ধরা দিয়েও অনেকখানি অধরা থেকে গেছে। অনুপমের ভাবনায় সে‘অর্ধেক রমণী’ ও ‘অর্ধেক কল্পনা’, এক স্বপ্নকন্যা (Dream Girl)।     

অনুপমের ভাষ্যমতে, ‘এই স্থুল অংশটাও (পণ) বিবাহের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’ আমাদের ধারণা, দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান। গুরুত্বহীন ও গৌণ অংশ হচ্ছে নববধূটি। উল্লেখযোগ্য যে, এগুলো গল্পলেখকের সমকালীন হিন্দুসমাজের যে সমাজ বিবেক ও মনুষ্যত্বশূন্য পরিচয় বহন করছে। আরো উল্লেখযোগ্য যে, গল্পলেখক তাঁর বড় ও মেজ মেয়েকে (রানি ও অতসী) পণসহ বাল্যবিবাহ দিয়েছেন এবং এদের বিবাহিত জীবন ছিল স্বল্পস্থায়ী ও দুর্বিষহ। এদেরই প্রতিচ্ছবি যেন নিরুপমা (নিরু) ও হৈমন্তী  (হৈম)। এরা  পণপ্রথার নির্মম বলি। কিন্তু  ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণী ও তার বাবা শম্ভুনাথ সেন সতর্ক ও পরিণামদর্শী। এরা শ্বশুরগৃহে বধূ-নিগ্রহ থেকে মুক্তির একটা সরল পথ খুঁজে নিয়েছে। এরা নতুন যুগের বার্তাবহ।     
এটা সুবিদিত যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিসম্ভার বিশাল। এক্ষেত্রে তাঁর প্রধান অবলম্বন ছিল সাধুভাষা। আলোচ্য গল্পগুলোতেও সাধুভাষাই ব্যবহৃত হয়েছে।‘দেনা-পাওনা’ গল্পের বর্ণনাভঙ্গি সংযত ও যথাযথ।‘হৈমন্তী’ও‘অপরিচিতা’গল্পের বর্ণনাভঙ্গি কাব্যধর্মী। আমাদের ধারণা, আলোচ্য তিনটি ছোটগল্পের মধ্যে ‘হৈমন্তী -ই শ্রেষ্ঠ।

মমিনুল হক

সহকারী অধ্যাপক, বাংলা

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

Daffodil College Alumni Students(Nirob Mojumder)

কর্মমুখর পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো নীরব মজুমদার

দূর থেকে আসাদ গেটে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে চেনা চেনা লাগছিল। আরও একটু এগিয়ে   গেলাম- ওমা! এ তো আমাদের ছাত্র নীরব,নীরব মজুমদার।

তুমি এখানে?

ক্লাস করনি?

 নীরবের প্রত্যুক্তি -না ম্যাডাম।

 একটু রাগ হলো বৈকি। আজকে ক্লাসে ‘হৈমন্তী’ গল্প পড়ালাম-যৌতুকের বলী হৈমন্তী, And she is Dead কিন্তু ছেলেটা যে কিছুই জানতে পারলো না- তার কী হবে?

প্রত্যুত্তরে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলাম, নীরব কাছে এসে বিনীত স্বরে বললো,-

 -ম্যাডাম কোথায় যাবেন?    

 -যাবো তো মিরপুর, কেন?

 -গাড়ি এখনই এসে পড়বে। 

গাড়িতে উঠতে উঠতে বললাম,-কাল ক্লাস করবে। 

পরদিন সকালে ক্লাসে নীরবকে দেখলাম নীরবে বসে আছে; গুরুর নির্দেশ পালন করেছে। ক্লাস শেষে বের হয়ে আসছিলাম, পেছন থেকে নীরব বললো

 -ম্যাডাম, টিফিনে ছুটি লাগবে।  

-না ছুটি হবে না। নীরবের দু‘জন সতীর্থ ওর পাশে দাঁড়ানো ছিল। একে অপরের মুখের দিকে চাইতে লাগলো। বললাম -সবাই ক্লাসে যাও। সতীর্থ দু‘জন এগিয়ে এসে বললো

 – ম্যাডাম ও তো একটা ‘পার্টটাইম’ জব করে -তাই আরকি

– নীরবকে ডেকে নিয়ে যা জানলাম-আমি তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। 

চার ভাই এক বোনের সংসারে নীরব সবার বড়, বাবা মারা গিয়েছেন বছর পাচেক হলো। অসহায় মা,ভাই-বোনের সংসারের হালটা ছাত্রাবস্থায় তাই নীরবকেই শক্ত হাতে ধরতে হয়েছিলো।  ওকে ছুটি দিলাম। এরপর যখনই আসাদ গেটে গিয়েছি, আমার দু‘চোখ ওকেই খুঁজে বেড়াতো। দেখা হলেই এগিয়ে আসতো। কালো ব্যাগ-কখনো হাতে, কখনো বা কাঁধে ঝুলতো। নীরব ছুটি নিয়ে চলে গেল। 

ভাবনার অতল সাগরে আমি শুধু ভাবছিলাম-জীবন যুদ্ধ কতটা কঠিন, তা বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়ালে বোঝা যায়, যেমনটা বুঝেছিলো নীরব। সিটিং সার্ভিস বাসের সামান্য টিকিট বিক্রেতা নীরব মজুমদার বুঝেছিলো- মানুষ নিজেই নিজের সৌভাগ্যের স্থপতি, তার সাফল্যের একনিষ্ঠ কারিগর। এ পৃথিবী অলস কর্মভীরুদের জন্য নয়। বুঝেছিলো- কর্মই জীবন, কর্মের মধ্যেই জীবনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠা। পর মুখাপেক্ষী নয়,নীরব কর্মমুখর পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল নিজের ভাগ্যকে গড়ার দুর্লভ সুযোগ পেয়ে। সে এখন দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালটন’ এর ‘অথরাইজড সার্ভিস পার্টনার’ হিসেবে ব্যবসা করছে।

জীবনের এই পর্যায়ে এসেও নীরব তার প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিল কলেজের কথা ভুলতে পারেনি। সে বার বার তার কলেজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। অনেক শিক্ষকের নাম সে কখনো ভুলতে পারবে না,যারা তাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। ভুলতে পারবে না কষ্টের মধ্যে সেই মধুময় অতীতকে। বর্তমানে তার নিজের একটা সংসার হয়েছে; তার ঘর আলো করে এসেছে একমাত্র মেয়ে সিদরাতুল নিহা। নীরবের পরিবারের জন্য ড্যাফোডিল পরিবারের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।

Daffodil International College Blog(Sanchita

Adaptation of Education during ‘Covid-19 Pandemic

Adaptation of Education during ‘Covid-19 Pandemic

Julie Gard, a professor of University of Wisconsin-superior, writes a poem titled as- “An Invocation for Learning and Safety” for academics across the country who are teaching during a time of crisis and uncertainty. She suggests us how to overcome any critical situation In this poem. She utters-

“To live an altered life that is still full of meaning

                                         to keep learning and dreaming in a time of crisis,

                                         to let crisis influence us but not dissuade us

                                         so that it’s not our roadblock, but our material.

                                         Let us continue this experiment together,

                                         with every precaution possible, borne of commitment,

                                         curiosity and love.

                                         Let us be open to transformation.”

It was December-2019, suddenly a news spread out around the world that a virus named as ‘Corona’ was identified in Wuhan of China. The virus caused a wide spread epidemic throughout China. Chinese health officials took the unprecedented measure of quarantining nearly 60 million people. Despite the massive quarantines, the virus spread beyond China’s borders to other parts of the world. It was confirmed to have spread to Bangladesh in March 2020. In order to protect the people of our country government first declare lockdown throughout the country from 17 March to 30 May gradually and prepare some necessary steps to spread awareness to keep this syndrome away from us.

Since 17 March, 2019 to till now all the educational institutes in our country have remained closed. Undoubtedly, the direct and most immediate impact of the COVID-19 on the educational sector is the loss of learning opportunities. Helping students deal with the adverse impacts of school closures, the government introduced remote learning through Television, Mobile phones, Radio and the Internet. From March, 2019 in pandemic situation, e-learning or distance learning has gained popularity in the education sector.

Online Class
Online Class

We can also incorporate Facebook Messenger, WhatsApp and YouTube Channels. We are running into the 21st century where technology knows no bounds. This is the face of radical development where technology is taking over every niche and corner. Smart phones, Laptop and Tablets are no more unknown words to this generation. Now, the Covid-19 situation shows us the alternative way to be habituated with 21st century’s educational skills. For an example, there is a picture of the celebration of the birth centenary of the Father of nation, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman which we arranged virtually.

মুজিববর্ষ উদযাপন
মুজিববর্ষ উদযাপন

Coping up with pandemic situation, we are trying to improve our e-learning activities day by day. Every teacher should encourage the young learners to accept the challenges of the 21st century as well as this pandemic situation by using latest modern technologies. In this connection, Covid-19 plays a positive role for developing e-learning not only in education sectors but also world trade, commerce and business sectors largely. Alfred Tennyson truly says in his famous poem- ULYSSES

“………..………………. yearning in desire

To follow knowledge like a sinking star,

Beyond the utmost bound of human thought”.

Being a teacher of Daffodil International College, I am pleased and grateful to the management of Daffodil Family. Because our honorable & far sighted Chairman, Dr. Md. Sabur Khan Sir, seeing the condition of Wuhan of China, instructed us to be prepared with e-learning so that our learners cannot deprive of learning procedure. Since then, we have continued our academic activities through using technologies with full swing. In this regard, I am also grateful to our honorable CEO Sir, COO Sir, Executive Director Sir & Principal Sir for their direct guidance to cope up with this adverse situation. Now we are teaching our students through Google meet, Google classroom, and e-learning courses of Smart edu. Not only that our students are also attend the Lab Classes virtually and given their Homework, Assignment, Examinations through using these platforms. Alhamdulillah, now our teachers, staffs and students can use these platforms successfully and they are going forward day by day.

Smart edu
Smart edu

Besides education, our students are participating in various co-curricular activities through online. They have proved their talents through achieving many awards. We also celebrate our national days like – International Mother Language Days, Independence Day, Victory Day, National Mourning day, the birth centenary of the Father of Nation, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, Bengali New Year through using online platform. It is noteworthy that all the teachers, students and staffs of our institution attended those program maintaining the dress code. All these activities are done through e-learning platform which were previously beyond our imagination. Here is a snap of our students who took part in various competition during this Covid-19.

Student Success in various competition
Student Success in various competition

Lastly, I like to say that although Covid-19 has taken away some valuable lives, it has given us many positive lessons. Especially, it plays a very positive role for developing e-learning almost in every sectors of life. Covid-19 also teaches us to be mentally strong at any adverse situation, technologically updated. Moreover, we have to be more conscious about taking the precautionary measures against Covid-19 pandemic to avoid this virus.

-Sanchita Nargees

Sr. Lecturer

Daffodil International College

Daffodil college Alumni Success story of Jawadul Islam Joy(DIC)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছে জাওয়াদুল ইসলাম জয়

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ২০১৭ – ২০১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মোঃ জাওয়াদ ইসলাম জয় জানালো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা।

২০১৯ সাল, সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে।  সবার মতই আমার ও আশা কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই শুরু করে দিলাম কোচিং। যদিও প্রথম প্রথম আমার ভিতরে অনেক ভয় কাজ করত। আমি মোটামুটি  কনফিডেন্ট ছিলাম কোথাও চান্স পাব না। যেহেতু ছোটকাল থেকে ছবি আঁকার প্রতি একটা নেশা ছিল তাই পরীক্ষা দিলাম প্রথমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চ’ ইউনিটে। ফলাফল পেয়ে খুশি তো হয়েছিই, অবাকও কম হইনি। বাবা-মা, ভাই-বোন ও বন্ধু সবার ইচ্ছায় ভর্তি হয়ে গেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদের “মৃৎশিল্প” বিভাগে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর অনেক কিছুই বদলে গেছে। যেটাকে আমি “positive change” হিসেবেই বিবেচনা করি। কলেজ জীবনে শিক্ষকদের কাছ থেকে আমার যা কিছু অর্জন তার সবটুকু ঢেলে দিয়েছি চারুকলা প্রাঙ্গণে। সামাজিকতা, মানুষের সাথে আচার – আচরণ যা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে । প্রাচ্যের এই অক্সফোর্ডে পড়ালেখা করেছেন দেশের বহু জ্ঞানি ও গুণীজন। হাজারো জ্ঞানের সমাহার এখানে যা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠার পর অনেক জ্ঞান অর্জন করেছি এবং এখনো করছি, কারন জ্ঞান অর্জনের কোন শেষ নেই। চারুকলায় পড়ার ফলে ছবি আঁকার অনেক প্লাটফর্মের সম্পর্কে জেনেছি, এবং আমার ছবি আঁকার মান উন্নত করতে সক্ষম হয়েছি। শিক্ষকরা মন দিয়ে শেখান। বড় ভাই ও আপুরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সহায়তা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ফলে বিভিন্ন সুযোগ পাচ্ছি। করোনা মহামারীর কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ না থাকলে বিভাগীয় বার্ষিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন করতে পারতাম। তবে লকডাউনে অনলাইন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন করেছি। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছি। হয়ত মহামারী না থাকলে আরো অনেক সুযোগ পেতাম। যাইহোক গত ২ বছর আগের আমি-র সাথে আজকের আমি অনেক পার্থক্য রয়েছে। ভবিষ্যতে ইন-শা-আল্লাহ আরো ভালো কিছু করবো। জীবনে এতদূর আশার পেছনে আমাকে সাহায্য করেছে আমার বাবা-মা-বোন, স্কুল ও কলেজের সকল শিক্ষক ও শিক্ষিকা, এবং আমার কয়েকজন বন্ধু। জাওয়াদ ইসলাম জয়ের পরিবারের জন্য ড্যাফোডিল পরিবারের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।