Daffodil College Alumni Md. Ali Emam(05-06)

চীনের সাংহাই ওশান ইউনিভার্সিটিতে PhD করছে আলী-ইমাম

আজকের গল্পটা যদি এভাবে শুরু হয়-

হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছ মহান,

তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীস্টের সন্মান,

কন্টক-মুকুট-শোভা।

কবির কন্ঠে সুর মিলিয়ে যদি বলি-দারিদ্রতাই মানুষের প্রতিভা ও অন্তর্নিহিত শক্তির প্রকাশকে সম্ভব করে তোলে-তাহলে বোধ হয় কিছু ভুল বলা হবে না। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ২০০৫-০৬ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আলি ইমাম প্রসঙ্গে যে কথাগুলো না বললেই নয়। আঘাত-সংঘাতের মধ্যেই ব্যক্তির সাহস ও সামর্থ্যের প্রকাশ ঘটে। আঘাত আসে আসুক, ব্যাঘাত আসে আসুক। পৃথিবীতে জীবন সংগ্রামের আছে সাফল্য, আছে ব্যর্থতা। তাতে কি যায় আসে ?

গত ২২/৭/২১ তারিখ অন-লাইনে কথা বলছিলাম ইমামের সাথে। অনেক ব্যস্ততার মাঝে সে কিছুটা সময় আমাকে দিয়েছিল যা রেকর্ডে ধারণ করেছিলাম, কয়েকবার কথাগুলো শুনেছি – জীবন কত বিচিত্র! এবার গল্পটা শোনা যাক ।

আমি মোঃ আলী-ইমাম । আমি চীনের সাংহাই ওশান ইউনিভার্সিটিতে ডক্টরাল ডিগ্রি করছি এবং আমার গবেষণার বিষয় Fishery Economics । আমি  চীনের নানজিং তথ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিনান্সে ২০১৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি  অর্জন করেছি। মালয়েশিয়ার মালভার্ন ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি থেকে বিজনেস স্টাডিজ এ ২০১৭ সালে ডিপ্লোমা অর্জন করেছি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের  আতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে মালয়েশিয়াতে এসেছিলাম কর্মসংস্থানের জন্য। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে ঢাকা বোর্ডের অধীনে ২০০৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি।

এবার পেছনের কথাগুলো বলতে চাই। আমার এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার পরে আমার শিক্ষার খরচ বহন করা আমার বাবা-মায়ের পক্ষে সম্ভব ছিল  না। কারণ, আমার আরও ছয়টি ভাই-বোন  ছিল ।

আমি সত্যিই দুশ্চিন্তায় ছিলাম, এরপর  কী হবে আমি কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমি কি আর পড়াশোনা চালিয়ে  যেতে পারবো না ? ছোটবেলা থেকে ইচ্ছে, উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে মাথা উচু করে বাঁচবো।

এমন সময় সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ সম্পর্কে জানতে পারি । জিপিএ -এর ভিত্তিতে  ৫০%  ছাড়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ আছে। ব্যাপারটা তখনই আমার বাবা- মায়ের সাথে আলোচনা করি। এবং আমার বাবা আমার এক আত্মীয়ের  কাছ থেকে  ভর্তির জন্য টাকা ধার করে আনেন। ভর্তি ফি জোগাড় হওয়ার পরে  কলেজে ভর্তি হলাম বটে, কিন্তু  আমি পড়াশোনার জন্য বই কিনতে পারিনি। এমনকি নিয়মিত কলেজ টিউশন ফিও দিতে পারছিলাম না। তবে আমি ভাগ্যবান যে, আমাদের তৎকালীন অধ্যক্ষ মহোদয় জামশেদুর রহমান স্যার আমাকে বই এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রচুর সহযোগিতা করেছিলেন ।

আমি  অধ্যক্ষ জামশেদুর রহমান স্যারকে ধন্যবাদ জানাই তার সমর্থন ব্যতীত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আমার পক্ষে সত্যিই কঠিন ছিল ।

ড্যাফোডিল কলেজের পরিবেশ, সেই সময়কার শিক্ষকবৃন্দ, সিনিয়র অফিসার রুনা ম্যাডাম এবং মাসুম ভাইয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সাথে আচরণ অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। রুনা ম্যাডাম সর্বদা শিক্ষার্থীদের সমস্যা জানার ও বুঝার জন্য আন্তরিকভাবে কথা বলতেন এবং তাদের সমস্যা সমাধান করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন । সবসময় সবাইকে ভালোভাবে পড়ালেখার ও ভালো রেজাল্টের জন্য উৎসাহিত  করতেন ।

জামশেদুর রহমান স্যারের সহায়তায় এইচএসসি পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করেছি বটে, তবে আমি আরও পড়াশোনা করতে চাই, কিন্তু কীভাবে? আমি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম, তবে আমি স্বপ্ন দেখেছি এবং আমার সদিচ্ছাই আমাকে এগিয়ে নিয়েছে । স্নাতক ডিগ্রি পড়ার সময়ে, আমি আমার মাকে হারিয়েছিলাম যিনি সর্বদা আমাকে সমর্থন করেছিলেন এবং তিনি আমার জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত ছিলেন। আমার প্রতিটি সিদ্ধান্তই মায়ের চোখে ঠিক ছিল। মায়ের হঠাৎ মৃত্যু আমার গোটা বিশ্বকে অন্ধ করে দিয়েছিলো । এক বছর ভালো করে পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারি নি কিন্তু হাল ছাড়িনি, অক্লান্ত পরিশ্রম করে স্নাতক ডিগ্রি শেষ করি । আমি যখন মালয়েশিয়ায় ছিলাম, বাবা পরপারে চলে গেলেন ।  তখন ফাইনাল পরীক্ষা ছিল, বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি। 

জীবনে ভালো কিছু পেতে হলে অনেক সময় অনেক ত্যাগও করতে হয় এটাই বাস্তবতা । 

শিক্ষা জীবন সত্যই আনন্দময়, একজন শিক্ষার্থী যদি সত্যিই নিজ হৃদয়ের কথা শুনে এবং অনুভব করে তবে সে বিজয়ী হবে ।

একজন শিক্ষার্থীর সবসময় মনে রাখতে হবে ” দিনের শেষে সে নিশ্চয়ই বিজয়ী হবে “

ধূমপান ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিলুফা ইয়াসমিন জুলাই ২১

ধূমপান ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ধূমপান থেকে বিরত থাকুন, নিজের জীবনকে ভালোবাসুন

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর- আমরা সবাই জানি, এ সত্যটা জেনেও আমরা ধূমপান করি।

ধূমপানের কারনে যে ক্ষতি হয় সেটি হয় খুব ধীর গতিতে এবং শরীরের ভিতরে হয়, এজন্য

আমরা এর ক্ষতিটা খুব একটা বুঝতে পারি না। ধুমপানের কারনে শুধু যে আমি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত  

হচ্ছি তা নয়, আমার আশেপাশে যারা আছে, তারাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যেমন- আমি আমার

সন্তানকে আমার জীবনের চেয়েও ভালবাসি অথচ আমি জানিনা আমার আদরের সোনামনি কতটা

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমি ধূমপান করার কারনে। অনেক সময় অনেক বাচ্চা নিউমোনিয়া নিয়ে

জন্মগ্রহণ করে ,বেশিরভাগ বাচ্চার এই রোগের কারন ধূমপান করা বাবা, এঁটা অনেক  

পরিসংখ্যানে বেরিয়ে এসেছে। শুধু তাই নয়, বাচ্চাদের ফুসফুসের সমস্যা, হার্টের সমস্যা,

কিডনির সমস্যা ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যাও এই কারনে হয়।

আমরা যারা মুসলমান তাদের জন্য ধূমপান করা হারাম ( সূরা আল আরাত) এবং কবিরা গুনাহ (

কারন আমরা এটা প্রতিনিয়ত করছি)। অনেকে আবার বলেন, আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি

আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিবেন- হ্যা আল্লাহ কাকে কি দিয়ে মাফ করবেন সেটি মহান আল্লাহ

তালাহই যানেন, তবে নামাজ আদায় করলে সেটি আমাদের পূন্যের পাল্লায় যাবে, আর ধূমপান

করলে গুনাহের পাল্লায় যাবে। তবে গুনাহের কাজ করলে মানুষ ধীরে ধীরে সেদিকেই ধাবিত হয়

এবং পূন্যের কাজ ছেড়ে দেয়।

আমরা যারা ধূমপান করি ধূমপানের ফলে এগুলো দেহের ভিতরে বিশেষ করে ফুসফুসে প্রবেশ

করে দেহকে অসুস্থ করতে শুরু করে । সিগারেটে যে রাসায়নিক উপাদান থাকে তার মধ্যে

নিকোটিন, আর্সেনিক, মিথেন, অ্যামোনিয়া, কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন, সায়ানাইড  

ইত্যাদি প্রধান। একজন অধুমপায়ী যে কাজ চটজলদি করতে পারে, সে কাজ ধূমপায়ীর জন্য

অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ প্রমানিত হয়। ধুমপানের কারনে COPD রোগ হয় এটি

ফুসফুসের রোগ। যারা ধুমপান করেন তারা সাধারনত এই রোগটি সম্পর্কে যানেন না, কারন

তারা যদি জানতেন তাহলে অবশ্যই এটি ছেড়ে দিতেন। অনেকের ধারনা ধুমপানের কারনে

ক্যান্সার হয়, এটি সত্য কথা কিন্তু তার চেয়েও মারাত্মক রোগ হলো COPD ২০১৯ সালে

WHO এর পরিসংখ্যানে

১ নং-হার্ট ডিজিজ

২ নং – স্ট্রোক

৩ নং- ক্যান্সার

৪ নং- COPD

COPD – এটি ২০২০সালে তিন নম্বরে সংক্রমনের দিকে এগিয়ে এসেছে, এটি মারন ব্যাধি এবং

এটি সৃস্টি হয় ধুমপানের কারনে। এটি চিকিৎসায় ভালো হয় না এবং এটি হলে মানুষ ধীরে ধীরে

মৃতে্যুর দিকে ঢলে পড়ে। এটি সিস্টেমিক ডিজিজ। এটির কারনে শরীরের সব অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়,

শরীরে পানি চলে আসে, হার্ট অ্যাটাক হয়, হার্ট ফেইলর হয়, কান্সার হয়।

আসুন আমরা সবাই ধূমপান পরিহার করি, COPD থেকে মুক্ত থাকি এবং নিজের জীবনকে

ভালবাসি।

নিলুফা ইয়াসমিন

সিনিয়র লেকচারার

ড্যাফোডিল ইন্তারনাসনাল

কলেজ জীবনের দুটি বছর

কলেজ জীবনের দুটি বছর

কলেজ জীবনের দুটি বছর

এইতো সেদিন! চোখের নিমিষে চলে গেল ১৮ টি বছর। ২০০৩ থেকে আজ ২০২১ সাল। কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের সাথে আমার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ১৮ বছর অতিক্রম করলাম। প্রতিবছর নতুন নতুন ছেলে মেয়ে। নবীন বরণ এর মাধ্যমে আমরা ওদেরকে বরণ করে নেই। দেখতে দেখতে চলে যাওয়ার সময় হয়ে যায় ওদের। এ যেন অন্য রকম অনুভুতি!

 “কেউবা লম্বা, কেউবা খাটো, কেউবা ফর্সা , কেউবা কালো -সবাই আমার প্রিয়। ওদেরকে অনুভব করা যেন আমাদের দায়িত্ব।

আমরা বলি এরা কথা শোনেনা, ওরা লেখাপড়া করে না, নিয়মিত না, মনোযোগী না। আবার কেউ অধিক মনোযোগী, কোনদিন ক্লাস মিস করেনি। কেউবা শুধু নিজের লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত, কেউবা বন্ধুর পড়া হলো কিনা সেটাই নিয়ে ব্যস্ত।

আসলে তো ওরা ছোট। যদিও ওরা কলেজে পড়ে, শুধু হাতে পায়ে লম্বা হয়ে বেড়ে উঠেছে  কিন্তু মনটা রয়ে গেছে শিশুসুলভ।

কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির মধ্যে পার্থক্যটা মাত্র ২ বছর। কিন্তু একটা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে পার্থক্যটা অনেক। দুই বছরেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে আমূল পরিবর্তন।

 দায়িত্ববোধ বেড়ে যাওয়া, নিজের প্রতি এবং পরিবারের প্রতি সচেতন হওয়া, নিজের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া সবই যেন জাদুর মত পরিবর্তন হয়ে যায়। কেউ কেউ যে ব্যতিক্রমী নয় তা নয় তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রকম দেখা যায়।

এমনো দেখা যায়, যে শিক্ষার্থীর পিছনে সারাক্ষণ লেগে থেকে তাকে তৈরি করতে হয়েছে, পথ দেখাতে হয়েছে, সেই শিক্ষার্থীর পথই আমরা এখন অন্য শিক্ষার্থীকে দেখাচ্ছি। এইতো আমাদের জীবন!

কলেজ জীবনের দুইটা বছর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।এটা একটা ঝুলন্ত সেতু। সেতু টা খুব সাবধানে সময়ের মধ্যেই পার হতে হয়। একটু বাঁকা হলেই পড়ে যেয়ে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। আমরা শিক্ষকরা ছেলেমেয়েগুলোকে দেখাশোনা করছি, জ্ঞানদানের চেষ্টা করছি, আমরা হলাম ওই সেতুর খুঁটি। আমরা যত মজবুত হবো ততই ওদের সেতু শক্ত হবে, ঝাঁকুনি কম লাগবে।

আমরা ওদের দেখাবো স্বপ্ন। সেতু পার হলেই যে রয়েছে স্থায়ী ঠিকানা। নিজের ক্যাম্পাস, নিজের বিশ্ববিদ্যালয়। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের চেষ্টা চলে সবসময়। যদি ওরা একবার‌ স্বপ্নটাকে লালন  করতে পারে, নিজের বলে ভাবতে পারে, তাহলেই আমরা সার্থক। ওদেরকে আর আমাদের ঠেলতে হবে না। ওরা নিজেই শিক্ষক এবং অভিভাবকে ঠেলবে, স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাহায্য করার জন্য। আমরা ওদেরকে ওই জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।

সকল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর কাছে আমার আহ্বান তোমরা সাবধানে সেতুটা পার হও। আনন্দ করো, আমাদেরকে আনন্দিত করো।

রওশন আরা ফেরদৌসি

অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রিন্সিপাল

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা By Mominul Huq Sir DIC

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

থুতু অথবা থু!

স. থুৎ > থুথু > থুতু।

এটা তুচ্ছ একটা জিনিস। তবু এ নিয়ে দুয়েকটি কথা বলা প্রয়োজন, যাতে, আমরা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি।

উন্নত দেশগুলোতে সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও রুচি উন্নত। তারা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। সেহেতু তারা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও থুতু ফেলে না। কিন্তু অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর চিত্র ভিন্ন।

মূল-মূত্র বর্জ্য পদার্থ। এগুলো আমরা ত্যাগ করি। কিন্তু থুতু ?

আমাদের মুখগহ্বরের লালাগ্রন্থি (salivary gland) থেকে নিঃসৃত একপ্রকার আঠাযুক্ত তরল পদার্থ হচ্ছে লালা বা লালারস। এগুলো মুখগহ্বরকে রাখে আর্দ্র- যার ফলে আমরা কথা বলতে পারি ;  খাদ্যদ্রব্য চিবিয়ে খেতে ও গিলতে পারি। সেহেতু লালারস-এর অন্য নাম পাচক রস । তাছাড়া লালারস অ্যানজাইম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ।  কিন্তু লালারস যখন মুখগহ্বর থেকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলি, তখনি আমরা একে বলি-  থুতু।

চিকিৎসাশান্ত্রমতে, থুতু বর্জ্য পদার্থ নয়। তবু আমরা যত্রতত্র থুতু ফেলি কেন? প্রথমত আমরা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতন। দ্বিতীয়ত এটা একটা বদভ্যাস।

আমাদের জানা প্রয়োজন, থুতুতে রোগ-জীবাণু মিশে থাকে। যেমন, যক্ষ্মার জীবাণু। তাছাড়া ভাইরাসজনিত বিভিন্ন রোগের জীবাণুও মিশে থাকে। ময়লা-আবর্জনা ও থুতু শুধু পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, সৌন্দর্যহানিকরও বটে। অতএব যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও থুতু ফেলা থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে।

কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা কী ?

শিক্ষার্থীরা আঙুলের ডগায় থুতু মেখে বইয়ের পাতা ওল্টায়, দোকানি আঙুলে থুতু মেখে ময়লা টাকা গোনে, লোকেরা পান খেয়ে যত্রতত্র পানের পিক ফেলে, রোজাদাররা রোজা রেখে ঘন-ঘন থুতু ফেলে। দুর্গন্ধ নাকে লাগলেই পথ-চলতি লোকেরা নাক-মুখ ঢাকে এবং থুতু ফেলে। যেন এগুলো আমাদের সংস্কৃতিরই অংশ। ধরা যাক, পথ চলতে গিয়ে কফ-থুতু বা কলার খোসায় পা-পিছলে একটা লোক মারাত্মকভাবে জখম হলো। এর দায় কে নেবে ?

থুঃ (Damn it !) – এর শিষ্ট কথ্যরূপ থু বা থুক। এটা ঘৃণা ও অবজ্ঞাসূচক শব্দ। যেমন, তুমি এতটা নীচ, থু! কাঁঠালের কোষগুলো পচা, থুক! বলা বাহুল্য যে, থুতুর সঙ্গে থু বা থুক সম্পর্কযুক্ত।

এটা ঠিক, থুতু একটা নোংরা বা বিচ্ছিরি জিনিস। কিন্তু এর নানা প্রকার ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য আছে।

ধরা যাক, দুজন পূর্ব-পরিচিত ভদ্রলোক রাস্তার দুদিক থেকে এগিয়ে আসছে। কাছাকাছি এসেই একজন রাস্তার পাশে ফিরে থুতু ফেলল। অন্য ভদ্রলোকটি কী ভাববে ? ওই থুতু বিরক্তি ও অবজ্ঞার ইঙ্গিত নয়তো?  তিনি নিঃসন্দেহে একটু বিব্রতই হবেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’-তে (১৯৪৮) বালিকাবধূ জমিলার নির্দয় বয়ষ্ক স্বামী মজিদ মৌলবির মুখে থুতু ছুঁড়ে দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে, তার এ আচরণের মর্মার্থ কী ? উত্তর হচ্ছে, এটা তার আত্মবক্ষার শেষ অস্ত্র। এটা তীব্র ঘৃণা ও অবজ্ঞার প্রতীক।

প্রবাদে আছে, ‘থুতু কেউ ওপরের দিকে ফেলে না।’ প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে কোথায় ফেলে ? উত্তর হচ্ছে, ডানে-বাঁয়ে বা আশেপাশে ফেলে। বলাই বাহুল্য যে, আমাদের সমাজে নিন্দুক ও ছিদ্রান্বেষী লোক বেশি। সেখান থেকেই এই প্রবাদের উৎপত্তি।

অতএব থুতু ক্ষুদ্র হলেও তুচ্ছ নয়। থুতু যত্রতত্র ফেলা সৌজন্যসূচকও নয়। সেহেতু কোনো-কোনো অফিস-আদালতের দেয়ালে লেখা থাকে- ‘যত্রতত্র থুতু ফেলবেন না।’

মমিনুল হক

সহকারী অধ্যাপক

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

Daffodil College Alumni student Kazi Rafakat Hasan

সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও কুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্বপ্ন পূরণের পথে

সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও কুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্বপ্ন পূরণের পথে

আমি কাজি রাফাকাত হোসেন, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের একজন নিয়মিত ছাত্র ।

আমার ছোটবেলা কেটেছে খুলনায়, ছোটবেলায় বাবা মা প্রায়ই খেলনা গাড়ি কিনে দিতেন। তখন থেকেই খেলনা গাড়ির প্রতি আমার ইন্টারেস্ট তৈরি হয়। যখন একটু বড় হয়েছি তখন থেকেই আমার খেলনা গাড়ি বা অন্য যেকোন খেলনা খুলে দেখতাম ভিতরে কি আছে। অথবা কোন কিছু নষ্ট হলেই খুলতাম দেখার জন্য। এ জন্য মাঝে মাঝে মার বকুনি খেয়েছি। মা আমার এসব দেখে তখন থেকেই বুঝতে পেরেছিল আমি প্রকৌশলী হতে পারব।  

আমি বরাবরই বিজ্ঞান বিষয়ে ভাল ছিলাম কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে দূর্বল ছিলাম। ফলে যা হবার তাই হল, জে এস সি এবং এস এস সি তে আশানুরূপ  ফলাফল পেলাম না। রেজাল্ট দেখে বাবা-মা হতাশ যদিও তারা আমাকে কোন কিছুই বলেননি। তখন আমার অবস্থা….. আর নাই বললাম । এর মধ্যেই কলেজে ভর্তির সময় চলে এলো। কয়েকটা কলেজ ঘুরে অবশেষে ভর্তি হলাম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে। কিন্তু আমি যখন কলেজে ভর্তি হই তখন চিন্তা করলাম ইঞ্জিনিয়ার হতে গেলে আমাকে Science এর subject গুলোতে ভালো করতেই হবে। এ ব্যাপারে কলেজ নির্বাচন করাটা আমার জন্য Positive ছিল। আমাদের কলেজের যে কজন শিক্ষক ছিলেন তারা প্রত্যেকেই আমাদেরকে আলাদাভাবে Take care করেছেন। যার জন্য এইচএসসির রেজাল্ট তুলনামূলক ভাল করতে পেরেছিলাম। বিষয়গুলো কঠিন হলেও শিক্ষকরা আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। আজকে আমার এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজকে দিতে চাই।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আমি কোনো কমতি রাখি নি, প্রতিদিন নিয়ম করে ভোর বেলা উঠে পড়তে বসা, ভর্তি কোচিং এর প্রতিটা ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করা (একটা ক্লাস ও মিস করিনি) , পড়া গুলো বাসায় এসে আবার রিভিউ করা, প্রতিটা বইয়ের প্রতিটা চ্যাপ্টার খুব ভালো ভাবে পড়া থেকে শুরু করে শিক্ষকদের সব নির্দেশনা ফলো করে সব কিছু করেছি ।আমি ভর্তি পরীক্ষায় CUET, SUST, MIST, DU ও KUET বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিলাম তবে, পছন্দের বিষয়, ভার্সিটির পরিবেশ, ভবিষ্যতে আমার প্ল্যান সবদিক বিবেচনা করে ভর্তি হলাম খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জন্য আমি আমার কলেজ ও আমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

Mental Health Issues During 'COVID - 19' By Alia Rawshan Banu (DIC) (1)

Mental Health issues during COVID 19

Mental Health issues during COVID 19

The outbreak of COVID-19 has brought global effects which has turned the world into a different state. Most countries have implemented social distancing measures to slow down the spread of the infection, the most universally used
methods include home quarantines and national school closures.

The advent of Corona Virus has shattered the world and continues to have a massive impact on people of all walks of life including an adverse effect on ‘Global Mental Health’. Specially the students of all stages are the sufferers of this immense toll.

Due to the pandemic, we are living a new life, our teenagers are facing new situation. As per the report of the United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization (UNESCO) on March 26, 2020, school closures have affected 87% of the world’s students.

The researchers have found that quarantined people are facing an elevated risk of developing acute and post traumatic stress symptoms and disorders, emotional disturbances, depression, stress, irritability, and anxiety-induced insomnia. Home quarantine and school closures during the pandemic have serious concerns about the ‘mental health’ of children and adolescents.


In addition to mentioning children and adolescents’ ‘mental health’ status during COVID-19 pandemic, the risks and protective factors need to be identified to understand who are the sufferers and what could be done to protect them against ‘mental health’ problems.
During home quarantine, parents are usually the ones who interact the most with children and adolescents. The World Health Organization (WHO) advises parents to discuss COVID-19 with their children in an honest and age-appropriate way. In this way, close and open communication between parents and children may serve as a protective factor in children’s ‘mental health’.

Moreover, ‘mental health’ professionals should develop guidelines for parents and guardians on how to
help their children while facing this crisis. The adolescents should feel that they are not alone in this
world. They must have time to relax by reading, listening to music and exploring new hobbies.

** As teachers, we can help our students by taking the following measures:

  1. Encourage our students to have regular connection with teachers and friends
    by participating in online classes and extra curricular activities.
  2. Help students find creative ways to spend quality time with family and friends .
  3. Inspire them to be active and do things what they enjoy.
  4. Create opportunities to write and talk about what they feel regarding the current
    events.
  5. Talk with students about healthy eating, their hobbies, pastimes, sleep and exercise.
  6. Motivate them to engage themselves in creative activities.
  7. Encourage them to connect with family, friends, and others in their community.

To sum up, the prevalence of anxiety, depression and disorder among the students can be lessened by
proper care and guidance from parents, relatives, teachers and well wishers. By identifying the factors
related their ‘mental health’ status, it can be said that friendly discussion between parent and child is a
must to remove the impact of home quarantine. Last but not the least, smooth and happy family
environment, quality time spent with family members and friends are essential to solve ‘mental health’
problems during COVID-19 pandemic.

Alia Rawshan Banu

Sr. Lecturer

Daffodil International College

Daffodil International College Teachers Blog by Nasreen Sultana (NS)

নিরাপদ খাদ্য ও সাম্প্রতিক সময়

নিরাপদ খাদ্য ও সাম্প্রতিক সময়

ঈশ্বর গুপ্তের বাণী- ‘ ভাত মাছ খেয়ে বাঁচে বাঙালি সকল।’ কিন্ত ভাত মাছ খেয়ে বেঁচে থাকার প্রয়াস বর্তমানে কঠিন হয়ে পড়েছে। কেননা আজকাল অসাধু ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ফায়দা লুটতে ইউরিয়া, ফরমালিন, কার্বাইড সহ বিভিন্ন কেমিক্যাল পদার্থ খাদ্যদ্রব্যে মিশিয়ে তা বিষে পরিণত করে ফেলছে।

হাট বাজার ঘুরেও কেমিক্যাল মুক্ত মাছ পাওয়া যায় না কোথাও। আগে পাইকারি আড়ৎ গুলিতে প্রকাশ্যে মাছের স্তুপে ফরমালিন বা কেমিক্যাল যুক্ত পানি স্প্রে করা হতো কিন্তু প্রশাসনের নজরদারিতে তা এখন কমে গেলেও অভিনব উপায়ে মাছে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। যেমন- বড় মাছ তাজা অবস্থায় ফরমালিন ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করা, ছোট মাছ ফরমালিন মিশ্রিত পানির ড্রামে চুবিয়ে তুলে ফেলা, ফরমালিন মিশ্রিত বরফ যা দেখতে হালকা বাদামি রঙের তা দিয়ে মাছকে চাপা দিয়ে রাখা ইত্যাদি।

বেকারীর কারখানায় খাবার সতেজ ও আকর্ষণীয় করার জন্য অতিরিক্ত পরিমাণ অ্যাডেটিভ পদার্থ, টেক্সটাইল রং সহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারে খাবার বিষাক্ত হয়ে পড়ে।

বাজারে এখন বিভিন্ন ফলের সমাহার যেমন:আম,জাম,কলা, পেঁপে পেয়ারা থেকে শুরু করে আপেল আঙ্গুর নাশপাতিসহ দেশী ও বিদেশী সব ফলই চোখে পড়ে। কিন্তু এই সব ফলই বিষে ভরা। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের জন্য ফল গাছে অপরিপক্ক থাকা অবস্থায় ইথিলিন ও ইথরিল হরমোন অতিমাত্রায় স্প্রে করা হয় এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয়। যারকারণে ফলগুলো রীতিমত  বিষে পরিণত হয়।তবে কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো ফলের সব অংশে সমান রং হবে এবং ফলের ভিতরের চামড়ার অংশে একটু তিতা হবে। এছাড়া ফলের এক অংশে টক অন্য অংশে মিষ্টি লাগবে।

আজকাল মুড়িতেও ইউরিয়া,হাইড্রোজ ব্যবহার করে লম্বা, সাদা ও আকর্ষণীয় করা হচ্ছে।এসব মুড়ির গায়ে অসংখ্য ছিদ্র থাকে, দেখতে খুব সাদা কিন্তু স্বাদ পানসে হয়ে যায়।

এসব ভেজাল- বিষাক্ত  খাদ্য  খেয়ে ক্যান্সার, কিডনি – লিভার বিকল হয়ে যাওয়া  সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের ‘বিষাক্ত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি’ শীর্ষক সেমিনারে বলা হয়, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ লোক ক্যান্সারে, ডায়াবেটিস রোগে ১ লাখ ৫০হাজার, কিডনি রোগে ২ লাখ লোক আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া গর্ভবতী মায়ের শারীরিক জটিলতা সহ গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। সুতরাং এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গণ সচেতনতা ও দরকার।

Formalin in Food
Formalin in Food

আমরা  কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে খাদ্যদ্রব্যকে কেমিক্যাল মুক্ত করতে পারি।যেমন – মাছ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজেই ফরমালিন মুক্ত করা যায়।মাছ কিনে এনে খুব ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে এর পর প্রায় এক ঘণ্টা তাকে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা পানির প্রভাবে মাছের শরীরের ফরমালিন কিছুটা বেরিয়ে যায়।এর পর লবণ পানি তৈরি করে তাতে কিছুক্ষণের জন্য ভিজিয়ে রাখুন মাছ। লবণ মাছের শরীরের ক্ষতিকর রাসায়নিককে সহজেই বের করে আনে।

এছাড়া প্রথমেই চাল ধোয়া পানি দিয়ে ধুয়ে নিন মাছ। তার পর সাধারণ পানি দিয়ে ডুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এতে সহজেই ফরমালিন সরে যাবে। 

ফল ও সবজিকে ফরমালিনমুক্ত করার সব চাইতে ভালো পদ্ধতি হলো- ভিনেগার ও পানির মিশ্রণে (পানিতে ১০% আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখা। এতে প্রায় ১০০ ভাগ ফরমালিন দূর হয়।

এছাড়া ফলমূল খাবার আগে সেটি হালকা গরম এবং লবণ মিশ্রিত পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে করে ফরমালিনের পরিমাণ প্রায় ৯৮ শতাংশ দূর হবে।

আশা করি এসব ঘরোয়া টিপস অনুসরণ করলে আমাদের কিছুটা উপকার হবে। পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করণে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষের নজরদারি আরও কঠোর ও বিস্তৃত করতে হবে।

তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক যুগান্তর

নাসরীন সুলতানা

প্রভাষক (রসায়ন বিভাগ)

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

Daffodil International College Teachers Blog by rakib Mojumder (MH) Sir

আদর্শ শিক্ষক- আলোর পথের দিশারী

আদর্শ শিক্ষক- আলোর পথের দিশারী

একজন আদর্শ শিক্ষক সঠিক পথের দিশারী, পথ পরিদর্শক এবং আলোর পথের পথ প্রদর্শক। তাঁর দূরদর্শীতা, আকর্ষণীয় সুন্দর ব্যক্তিত্ব, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মূল্যবোধ, চৌকষ ও কৌশলী ভূমিকা শিক্ষার্থীর শিখন প্রক্রিয়ায়, জ্ঞান অন্বেষণে, মেধার বিকাশ ও উন্নয়নে, চরিত্র গঠনে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে থাকে।

একজন নীতিবান ও বিবেকবান আদর্শ শিক্ষকের ছোঁয়ায় যেমনটি শিক্ষার্থীর মানসম্মত সুশিক্ষা সুনিশ্চিত হয় তেমনি শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলী, মানসিক উৎকর্ষ সাধন এবং মননের সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

আদর্শ শিক্ষকের কথা ও কাজের মধ্যে থাকে এক অপূর্ব মেলবন্ধন সমীকরণ। তাঁর আচার-ব্যবহার শিক্ষার্থীদের আদর্শবোধে উজ্জীবিত ও উদ্বুদ্ধ করে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সাহস সঞ্চার হয় এবং শিক্ষার্থীরা চরম ও পরমভাবে অনুপ্রাণিত হয়। সর্বোপরি, আদর্শ শিক্ষকের সীমাহীন উৎসাহ পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের সব ভয়কে জয় করে সাফল্যের চূড়ায় উঠতে পারে এবং নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আদর্শ শিক্ষকের মৌলিক মানবীয় গুণাবলী, অনুপম চারিত্রিক মাধুর্য, বুদ্ধিদীপ্ত উচ্চ নৈতিকতাসম্পন্ন জ্ঞান, সহযোগিতার মনোভাব, কর্তব্যনিষ্ঠা ও চিত্তাকর্ষক ব্যক্তিত্ব শিক্ষার্থীর মনে দাগ কাটে। যার ফলে শিক্ষার্থীর সাথে শিক্ষকের আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যকার এই সম্পর্ক এক অনাবিল, আদর্শিক ও যুগপৎ সম্পর্ক।

যেখানে মৌলিক কোন চাওয়া-পাওয়ার বিষয় সংযুক্ত থাকেনা, থাকে পরস্পরের প্রতি এক অকৃত্রিম ভালোবাসা ও অবিরাম শুভকামনা।

পরিশেষে, সকল আদর্শ শিক্ষকমন্ডলীর প্রতি রইল সশ্রদ্ধ সালাম, বিনম্র শ্রদ্ধা ও নিরন্তর ভালোবাসা।

ধন্যবাদান্তে
রাকিব মজুমদার
সিনিয়র প্রভাষক,
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, ঢাকা।

Daffodil International College Blog(Syeda Nazmin Akhter)

বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষা

বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষা

অনলাইন ভার্চুয়াল ক্লাসে বাংলা শব্দ গঠনের উপায় গুলো পড়াচ্ছিলাম । একাদশ শ্রণির একজন শিক্ষার্থী বললো , ম্যাডাম , দৌহিত্র্য , সহোদর , অহোরাত্র , অতীন্দ্রিয় এগুলোতো আমাদের ভাষা না । আমার প্রশ্ন, তবে আমাদের ভাষা কোনগুলো ? ওর উত্তর ফেসবুকে যে ভাষায় আমরা বন্ধুদের সাথে কথা বলি ।ওকে বললাম , বাবা , বাংলা ভাষার ২৫% শব্দই তৎসম বা সংস্কৃত । তাই বাংলা শব্দগঠনের প্রধান উপায়গুলোর প্রায় সবটাই সংস্কৃত শব্দ । যেমন : সংস্কৃত ‘দুহিতা’ শব্দের সাথে আপোত্য বা জাত অর্থে য- প্রত্যয় যুক্ত হয়ে (দুহিতা + য)= দৌহিত্র্য (কন্যার পুত্র) আর সমাস সাধিত হয়ে সহোদর (সমান উদর যার) অর্থ মায়ের পেটের ভাই । উদর অর্থ পেট ।

ওরা তো ফেসবুকের জগতের মানুষ । বললাম , তোমাদের প্রজন্মের ফেসবুকের ভাষাও বাংলা ভাষার বিকৃত রূপ । হাজার হাজার বছর ধরে উচ্চারণের বিকৃতির ভিতর দিয়ে পরিবর্তিত হতে হতে আজকের বাংলা ভাষা । আর ভাষার বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্যই ব্যাকরণবিদগণ ভাষার উপাদান গুলো বিশ্লেষণ করেছেন । 

তখন মনে হলো এই ফেসবুকের জগতের নতুন প্রজন্মের হয়তো বাঙালি জাতি ও তার ভাষার ইতিহাসটাই অজানা । তাই ওদের জন্যই এই লেখা ।

ভারতীয় উপমহাদেশে মানুষের ইতিহাস অতি প্রচীনকাল থেকে বিস্তৃত । ২ থেকে ৪ লক্ষ বছর আগে এখানে মানুষের বসবাসেরর চিহ্ন পাওয়া গেছে । তবে সে মানুষ আধুনিক মানুষ ছিলো না । অনুমান করা কঠিন নয় যে কালক্রমে ভারত বর্ষের বাইরে থেকেই প্রথম এসকল আধুনিক মানুষ ভারতীয় উপমহাদেশে এসে পোঁছেছিলো । সাথে নিয়ে এসেছিলো উন্নত ধরণের শিকারের হাতিয়ার ও জ্ঞান । বাংলার পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে প্রাচীন ও নব্য প্রস্তর যুগের নিদর্শন পাওয়া গেছে বলে ঐতিহাসিকেরা উল্লেখ করেছেন । এসকল যুগে বাংলার সীমান্ত পার্বত্য অঞ্চলেই মানুষ বাস করতো এবং ক্রমে তারা অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে । 

বর্তমান বাঙালি জনগোষ্ঠি বহুকাল ধরে নানা জাতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে । এর মূল কাঠামো সৃষ্টির কাল প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে মুসলমান অধিকারের পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত । সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠিকে দুভাগে ভাগ করা যায় । ক. প্রাক-আর্য বা অনার্য নরগোষ্ঠি এবং খ. আর্য নরগোষ্ঠি । এদেশে আর্যদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত অনার্যদেরই বসতি ছিলো । এই প্রাক-আর্য নরগোষ্ঠি বাঙালি জীবনের মেরুদণ্ড । আর্যদের আগমনে সে জীবন উৎকর্ষ মণ্ডিত হয়ে ওঠে । 

 বৈদিক যুগে আর্যদের সঙ্গে বাংলাদেশবাসীর কোন সম্পর্ক ছিলো না । বৈদিক গ্রন্থাদিতে বাংলার নরনারীকে অনার্য ও অসভ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে । বাংলার আদিম অধিবাসী আর্য জাতি থেকে উদভূত হয়নি । আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠি মূলত নেগ্রিটো , অস্ট্রিক , দ্রাবিড় ও ভোট চীনীয় – এই চার  শাখায় বিভক্ত ছিলো । নিগ্রোদের মতো দেহ গঠনযুক্ত এক আদিম জাতির এদেশে বসবাসের কথা অনুমান করা হয় । কালের পরিবর্তনে তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব এখন বিলুপ্ত ।এই আদিম জাতি বা অস্ট্রো – এশিয়াটিক বা অস্ট্রিক গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে বলে ধারণা ।

বাংলাদেশের অধিবাসীরা প্রথম থেকেই বাংলা ভাষায় কথা বলতো না । বাংলা প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষাগোষ্ঠীর অন্যতম ভাষা হিসেবে বিবর্তিত হয়েছে বলে প্রাক-আর্যযুগের অস্ট্রিকওদ্রাবিড় জনগোষ্ঠির ভাষার সঙ্গে তা সংশ্লিষ্ট নয় । তবে সেসব ভাষার শব্দসম্ভার রয়েছে বাংলা ভাষায় । অনার্যদের তাড়িয়ে আর্যরা এদেশে বসবাস শুরু করলে , তাদেরই আর্য ভাষা বিবর্তনের মাধ্যমে ক্রমে ক্রমে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে । বাঙালি জাতি যেমন সংকর জনসমষ্টি , বাংলা ভাষাও তেমনি সংকর ভাষা । 

বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে এ উপমহাদেশের দুজন পণ্ডিতের সর্বাধিক আলোচিত সিদ্ধান্ত এ প্রসঙ্গে তুলে ধরা যায় । তাঁদের একজন হলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ । তাঁর মতে গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষা এসেছে । তিনি ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে বলেন , 

                “ এই গৌড় অপভ্রংশ হইতে বাঙ্গালা ভাষার উৎপত্তি ।” 

  অন্যদিকে ‘ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ’ গ্রন্থে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেছেন , 

              “ খ্রিষ্টীয় ৭০০ / ৮০০-র দিকে মাগধী অপভ্রংশ পূর্ব ভারতে প্রচলিত

                ছিল– এই ভাষা ছিল বাঙ্গালা , আসামী , উড়িয়া , মৈথিলী , মগহী 

               এবং ভোজপুরিয়ার মাতৃস্থানীয় ।” 

কিন্তু আধুনিক ভাষা বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে , মাগধী প্রাকৃত থেকে দশম  শতাব্দীতে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে । 

 সৈয়দা নাজমিন আখতার

 সিনিয়র প্রভাষক

 ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

Daffodil International College Blog(Milton)

Learning English: Grammar or Situational Application

Learning English: Grammar or Situational Application-

The grammar is the structure of a language by which something is written or spoken correctly. It is a common notion that the rules of grammar have to be followed in writing and speaking a language. The purpose of learning another language is to use it in our daily lives to meet our daily needs. Now the question is, when learning English, will we first learn grammar or use English words?
As seen in most cases in our country, we start learning English with English grammar. We seldom think about how realistic and scientific the matter is. Bengali is also a language like English. When a child starts speaking in Bengali, does he not start speaking in terms of verbs, conjunctions, suffixes, etc. and starts using the language directly? The reality is that the child does not know any of this, he starts using language directly and this is normal. He learns the language by listening to it from all around him. Throughout his life he can use Bengali language well without knowing grammar. What does that mean? We can learn Bengali without learning grammar. Similarly, if an uneducated boy or girl is sent to an English-speaking country, it will be seen after a couple of years that the boy or girl is fluent in English. He does not know grammar and which action point he has learned to speak English to meet his needs.
Here it is seen that besides grammar, English language can also be mastered and used by a person. Now again the question is, will we learn grammar at all to learn English, or will we master the English language directly from stories, essays? I have seen and still see in my teaching life. Many students come to learn English first and say, ‘Sir, I am very weak in grammar, please teach me the first grammar.’ The parents of the students also say, ‘He is a little weak in grammar, explain the grammar first so that he can get good results in the exam.’ To know a language, one has to practice that language. Just knowing a few rules of grammar doesn’t mean he/she has become an expert in English. Students, as well as parents can’t understand this matter.

The real proof that English cannot be used in real life just by learning grammar. Almost all the graduates and masters degree holders in our country have studied English as a compulsory subject till primary school level but what percentage can speak and write English? How many people can understand by listening to English and read and understand something written in English?
We all know the answer to this question. If a Bangladeshi boy or girl competes for a job with an Indian or a Sri Lankan boy or girl, then the Bangladeshi candidate is far behind. And the main reason for this backwardness is the backwardness in English.

 Yes, grammar is to be learnt but its application is to be learnt first.  Many of us know the different types and exceptions of English grammar but do not know the application of English in real life. The concept of grammar limits the ability to use language. Spontaneity is needed to use language effectively. And this spontaneity can be achieved through a lot of practice, not by knowing grammar. The environment needed to know a language. We don’t have that environment to learn English, not even today. We have to do it in practice class to learn English. The more the teacher can do this practice, the more the students will be benefited.

English grammar has to be learned from ‘situation’. Learning grammar in isolation does not effectively apply it to real needs, but rather limits language. One thing we need to do well. That is, learning to swim, cycling, learning to wear a sari, learning to wear a tie, learning to cook and driving is not just about memorizing rules. Practice is needed, long practice is needed.  For learning English, there will be many mistakes while practicing. We have to learn by making mistakes. That is the rule. This is the modern and scientific method.

Another thing to understand is that English is a skills-based subject, not content based. And practice is needed to acquire this skill. But it is still seen that most of the teachers make suggestions to the students before the exams. That is providing encouragement for memorization. These teachers also get a lot of praise from students and parents. But we never think that it is wasting the creativity of the students, that is, the students are not able to create anything on their own.
Without this practice, if we just learn grammar, we will not be able to learn English in real sense. The current English syllabus is largely science based because there is ample opportunity to practice English in this syllabus and text books. But to understand this syllabus, we need trained teachers, and here is our problem.

Abu Ata Hia Milton

Senior Lecturer in English

Daffodil International College