Daffodil College Alumni Students(Nirob Mojumder)

কর্মমুখর পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো নীরব মজুমদার

দূর থেকে আসাদ গেটে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে চেনা চেনা লাগছিল। আরও একটু এগিয়ে   গেলাম- ওমা! এ তো আমাদের ছাত্র নীরব,নীরব মজুমদার।

তুমি এখানে?

ক্লাস করনি?

 নীরবের প্রত্যুক্তি -না ম্যাডাম।

 একটু রাগ হলো বৈকি। আজকে ক্লাসে ‘হৈমন্তী’ গল্প পড়ালাম-যৌতুকের বলী হৈমন্তী, And she is Dead কিন্তু ছেলেটা যে কিছুই জানতে পারলো না- তার কী হবে?

প্রত্যুত্তরে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলাম, নীরব কাছে এসে বিনীত স্বরে বললো,-

 -ম্যাডাম কোথায় যাবেন?    

 -যাবো তো মিরপুর, কেন?

 -গাড়ি এখনই এসে পড়বে। 

গাড়িতে উঠতে উঠতে বললাম,-কাল ক্লাস করবে। 

পরদিন সকালে ক্লাসে নীরবকে দেখলাম নীরবে বসে আছে; গুরুর নির্দেশ পালন করেছে। ক্লাস শেষে বের হয়ে আসছিলাম, পেছন থেকে নীরব বললো

 -ম্যাডাম, টিফিনে ছুটি লাগবে।  

-না ছুটি হবে না। নীরবের দু‘জন সতীর্থ ওর পাশে দাঁড়ানো ছিল। একে অপরের মুখের দিকে চাইতে লাগলো। বললাম -সবাই ক্লাসে যাও। সতীর্থ দু‘জন এগিয়ে এসে বললো

 – ম্যাডাম ও তো একটা ‘পার্টটাইম’ জব করে -তাই আরকি

– নীরবকে ডেকে নিয়ে যা জানলাম-আমি তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। 

চার ভাই এক বোনের সংসারে নীরব সবার বড়, বাবা মারা গিয়েছেন বছর পাচেক হলো। অসহায় মা,ভাই-বোনের সংসারের হালটা ছাত্রাবস্থায় তাই নীরবকেই শক্ত হাতে ধরতে হয়েছিলো।  ওকে ছুটি দিলাম। এরপর যখনই আসাদ গেটে গিয়েছি, আমার দু‘চোখ ওকেই খুঁজে বেড়াতো। দেখা হলেই এগিয়ে আসতো। কালো ব্যাগ-কখনো হাতে, কখনো বা কাঁধে ঝুলতো। নীরব ছুটি নিয়ে চলে গেল। 

ভাবনার অতল সাগরে আমি শুধু ভাবছিলাম-জীবন যুদ্ধ কতটা কঠিন, তা বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়ালে বোঝা যায়, যেমনটা বুঝেছিলো নীরব। সিটিং সার্ভিস বাসের সামান্য টিকিট বিক্রেতা নীরব মজুমদার বুঝেছিলো- মানুষ নিজেই নিজের সৌভাগ্যের স্থপতি, তার সাফল্যের একনিষ্ঠ কারিগর। এ পৃথিবী অলস কর্মভীরুদের জন্য নয়। বুঝেছিলো- কর্মই জীবন, কর্মের মধ্যেই জীবনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠা। পর মুখাপেক্ষী নয়,নীরব কর্মমুখর পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল নিজের ভাগ্যকে গড়ার দুর্লভ সুযোগ পেয়ে। সে এখন দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালটন’ এর ‘অথরাইজড সার্ভিস পার্টনার’ হিসেবে ব্যবসা করছে।

জীবনের এই পর্যায়ে এসেও নীরব তার প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিল কলেজের কথা ভুলতে পারেনি। সে বার বার তার কলেজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। অনেক শিক্ষকের নাম সে কখনো ভুলতে পারবে না,যারা তাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। ভুলতে পারবে না কষ্টের মধ্যে সেই মধুময় অতীতকে। বর্তমানে তার নিজের একটা সংসার হয়েছে; তার ঘর আলো করে এসেছে একমাত্র মেয়ে সিদরাতুল নিহা। নীরবের পরিবারের জন্য ড্যাফোডিল পরিবারের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।

Daffodil college Alumni Success story of Jawadul Islam Joy(DIC)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছে জাওয়াদুল ইসলাম জয়

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ২০১৭ – ২০১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মোঃ জাওয়াদ ইসলাম জয় জানালো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা।

২০১৯ সাল, সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে।  সবার মতই আমার ও আশা কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই শুরু করে দিলাম কোচিং। যদিও প্রথম প্রথম আমার ভিতরে অনেক ভয় কাজ করত। আমি মোটামুটি  কনফিডেন্ট ছিলাম কোথাও চান্স পাব না। যেহেতু ছোটকাল থেকে ছবি আঁকার প্রতি একটা নেশা ছিল তাই পরীক্ষা দিলাম প্রথমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চ’ ইউনিটে। ফলাফল পেয়ে খুশি তো হয়েছিই, অবাকও কম হইনি। বাবা-মা, ভাই-বোন ও বন্ধু সবার ইচ্ছায় ভর্তি হয়ে গেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদের “মৃৎশিল্প” বিভাগে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর অনেক কিছুই বদলে গেছে। যেটাকে আমি “positive change” হিসেবেই বিবেচনা করি। কলেজ জীবনে শিক্ষকদের কাছ থেকে আমার যা কিছু অর্জন তার সবটুকু ঢেলে দিয়েছি চারুকলা প্রাঙ্গণে। সামাজিকতা, মানুষের সাথে আচার – আচরণ যা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে । প্রাচ্যের এই অক্সফোর্ডে পড়ালেখা করেছেন দেশের বহু জ্ঞানি ও গুণীজন। হাজারো জ্ঞানের সমাহার এখানে যা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠার পর অনেক জ্ঞান অর্জন করেছি এবং এখনো করছি, কারন জ্ঞান অর্জনের কোন শেষ নেই। চারুকলায় পড়ার ফলে ছবি আঁকার অনেক প্লাটফর্মের সম্পর্কে জেনেছি, এবং আমার ছবি আঁকার মান উন্নত করতে সক্ষম হয়েছি। শিক্ষকরা মন দিয়ে শেখান। বড় ভাই ও আপুরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সহায়তা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ফলে বিভিন্ন সুযোগ পাচ্ছি। করোনা মহামারীর কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ না থাকলে বিভাগীয় বার্ষিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন করতে পারতাম। তবে লকডাউনে অনলাইন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন করেছি। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছি। হয়ত মহামারী না থাকলে আরো অনেক সুযোগ পেতাম। যাইহোক গত ২ বছর আগের আমি-র সাথে আজকের আমি অনেক পার্থক্য রয়েছে। ভবিষ্যতে ইন-শা-আল্লাহ আরো ভালো কিছু করবো। জীবনে এতদূর আশার পেছনে আমাকে সাহায্য করেছে আমার বাবা-মা-বোন, স্কুল ও কলেজের সকল শিক্ষক ও শিক্ষিকা, এবং আমার কয়েকজন বন্ধু। 

Daffodil College Alumni Students(Anik Halder)

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এ ইলেকট্রনিকস এন্ড টেলিকমউনিকেসন বিভাগে আমাদের অনিক হালদার

অনিক হালদার, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ২০১৫-১৬ সেশনের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। সে ২০১৭ সালে এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে। বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এ ইলেকট্রনিকস এন্ড টেলিকমউনিকেসন (ETE) বিভাগে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছে।
আমাদের গল্পের দশম পর্বে অনিক হালদার তার স্মৃতিচারণ করেছে এভাবেই –

স্কুলে থাকাকালীন সময়ই চিন্তা ছিলো ঢাকায় কোনো কলেজে ভর্তি হব। বড় ভাই ড্যাফোডিল কলেজে পড়াশোনা করায় ভর্তি হলাম ড্যাফোডিল কলেজেই। কলেজের সব শিক্ষকবৃন্দ প্রথম থেকেই ভালো করে চিনতো এবং সকলেই অনেক স্নেহ করতেন। কলেজের সকল শিক্ষকবৃন্দ খুবই আন্তরিক ছিলেন, সকলেই খুব যত্নসহকারে পড়াতেন। পড়াশোনার কোনো বিষয়ে সমস্যা থাকলে কলেজ ছুটির পরেও শিক্ষকদের কাছে গেলে তারা সময় নিয়ে বুঝিয়ে দিতেন ৷ কলেজে পড়াকালীন ইন্জিনিয়ারিং – এ পড়ার চিন্তা মাথায় ছিলো। সেই চিন্তা নিয়েই পড়াশোনা করে যাচ্ছিলাম। দেখতে দেখতে এইচ এস সি পরীক্ষা চলে আসলো। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর, ইন্জিনিয়ারিং ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করলাম। প্রায় দুইমাস পর এইচ এস সি রেজাল্ট হলো; অল্পের জন্য এ+ পেলাম না তখন, ভাবলাম হয়তো আর ইন্জিনিয়ারিং পড়া হবেনা।

কয়েকদিন মন খারাপ ছিল কিন্তু এভাবে তো জীবন চলবে না; তাই ভালমত পড়াশোনা শুরু করলাম আর ভাবলাম, যেভাবেই হোক ভালো একটা ভার্সিটিতে চান্স পেতেই হবে। 

কিছুদিন পর সার্কুলারে দেখলাম বুয়েট ছাড়া বাকি সব ইন্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিগুলোতে পরীক্ষা দিতে পারবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম, রেজাল্ট হলো কিন্তু পজিশন ভাল না। রাজশাহীতে গেলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে। রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকলাম, সকালে উঠে পরীক্ষা দিলাম। তারপরদিন আরো একটা ইউনিট এ পরীক্ষা দিয়ে কলেজর বন্ধু কামরুল সহ আরো কয়েকজন চলে গেলাম পাবনার উদ্দেশ্য। পরদিন বিকেলে পরীক্ষা দেওয়ার পর সন্ধ্যার পরপর ঈশ্বরদী স্টেশনে চলে আসলাম ঢাকা আসবো বলে, ঐ দিন বাসের কোনো টিকিট ছিলোনা তাই ট্রেনই ছিলো একমাত্র ভরসা। স্টেশনে এসে কোনো টিকিট না পাওয়ায় রাতে স্ট্যান্ডিং টিকেট কাটলাম। সেই রাতটি ছিল আামার জীবনে স্মৃতিময় একটি রাত। স্টেশনে আসার পর দুই-তিন জনের সাথে পরিচয় হলো। ট্রেন আসার কথা রাত ১১ টায় হলেও ট্রেন আসলো রাত ১ টার পর। যাদের সাথে স্টেশনে পরিচয় হলো তাদের সাথে আমরা ট্রেনে উঠলাম। উঠার পর দেখলাম পুরো বগি ভরা এডমিশন ক্যান্ডিডেট।  একজন দুইজন করে ১০-১২ জনের একটা সার্কেল হয়ে গেলো।  পুরোরাত সকলে গল্প গুজব করে কাটিয়ে দিলাম। একদল অচেনা মানুষের সাথে এতো সুন্দর একটা রাত পার হবে সেটা কল্পনার বাইরে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট হলো সেখানে মেরিট লিস্টে নাম দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হলাম তখনো রুয়েট এর পরীক্ষা হয়নি। কিছুদিন পর আবার রাজশাহীতে গেলাম রুয়েট এর ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। পরীক্ষা দিয়ে মনে হলো হয়তো ভাল পজিশন আসবে। দুপুরেই বাসে উঠলাম সিলেটের উদ্দেশ্যে। দুপুর থেকে প্রায় ভোর পর্যন্ত বাসেই কাটে গেল। রুয়েট এর রেজাল্ট দিলো, মনের ভিতর কিছুটা সংশয় নিয়ে রেজাল্ট দেখতে ঢুকলাম। পজিশন দেখে মনে হলো হয়তো ইন্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হতে পারব। সেই মুহূর্তের অনুভূতি বলে প্রকাশ করা যাবেনা। তার কয়েকদিন পর ভর্তির জন্য ডাক পড়ল। সব কাগজ এবং কিছু মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে ভর্তি হতে গেলাম। ভর্তির পর মনে হলো মাথা থেকে ভারী বোঝাটা নামল। ভর্তির পর বিকেলে একটা মেস ঠিক করে তার পরদিন ঢাকায় ফিরে আসলাম।

এক মাস পর থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার ডেট পেলাম। এক মাস দেখতে দেখতে কেটে গেল। পরিবার থেকে অনেক দূরে যাচ্ছি এই নিয়ে মনে সংশয় ছিলো, কিভাবে সবার সাথে মানিয়ে উঠবো! এই সংশয় নিয়ে পরদিন সকালে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তারপরের দিন ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের জন্য ক্যাম্পাসে চলে গেলাম। সেখানে আমার নিজের ডিপার্টমেন্টের কয়েকজনের সাথে পরিচয় হল। পরদিন সকালে ক্লাসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। প্রথম ক্লাসে সব শিক্ষক আমাদের সবার পরিচয় নিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে অনেক ধারণা এবং কিছু উপদেশ দিলেন। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, সবার সাথে মানিয়ে চলা শুরু করলাম। নতুন শহরে ঘুরাঘুরি এবং সবার সাথে আড্ডা দিতে দিতে দিন কাটতে লাগল। দেখতে দেখতেই পায় প্রথম সেমিস্টার এক্সাম চলে আসলো। প্রথম সেমিস্টারের ফিজিক্স ল্যাব পরীক্ষা নিয়ে বেশ ভয়ে ছিলাম। বোর্ড ভাইভা ছিল নতুন আরেক অভিজ্ঞতা। আস্তে আস্তে সবকিছুতে মানিয়ে উঠলাম। প্রায় দেড় বছর পর একটা টিউশন ম্যানেজ করলাম। এভাবেই  চলতে থাকলো জীবন। ভবিষ্যতে বিদেশে গিয়ে পড়াশোনার ইচ্ছে আছে। সকলে দোয়া করবেন যাতে, আমি আমার লক্ষ্যে পৌছাতে পারি।

Daffodil College Alumni Students(Fazlay Rabbi Shuvo)

সুদূর চীনের Yunnan University তে Software Engineering এর স্বপ্ন পূরণের পথে আমাদের শুভ

ফজলে রাব্বি শুভ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ২০১৬ – ২০১৭ সেশনের একজন ছাত্র। বর্তমানে  চীনের একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি তে ( Yunnan University, Kunming, China ) সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং- এ লেখাপড়া করছে।

২০১৮ সালে এইচএসসি পাশ করার পরে, বাংলাদেশ থেকে চীনে পৌঁছানোর গল্পটা শুভর মুখ থেকেই শোনা যাক্:

‘আমার মতে, বর্তমান কে মনে করে অতীত কে ভুলে যাওয়া মোটেও উচিত না। DIC-

তে আমার কাটানো সময় টা শুধু ২ বছর হলেও এটা ছিলো আমার দ্বিতীয় হোম।’ শুভর কলেজ লাইফটা ছিলো একটু অন্যরকম।

সে বলেছে ‘রোজ সকালে সবার আগে এখানে আসাটা প্রায় আমার একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। যখন কলেজের গেইটও খুলতো না; আমি শুভ হাজির হয়ে যেতাম আমার প্রিয় প্রাঙ্গণে। সেই ভোর ৬ টায় এসে ক্লাস শেষ করে, বাসায় যেতাম সন্ধ্যা ৬ টায়। দিনের বেশিরভাগ সময় এখানে কাটত আমার,ঠিক আমার বাসার মতো।‘

এছাড়াও এখানকার স্যার, ম্যাডামরা ফ্যামিলি মেম্বার থেকে কোনো অংশে কম ছিলেন না। কোন কোন শিক্ষককে দেখে ভয় পেতাম; পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখতে ভুল করলে বকাঝকা যেমন খেয়েছি, সঠিক লিখার জন্য প্রশংসাও পেয়েছি। শিক্ষাগুরু তো এমনই হয়।’

শুভর বিদেশে পড়তে যাওয়ার পেছনে নিজের ইচ্ছা, বাবা-মাযের উৎসাহের পাশাপাশি শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতার কথাও সে ভুলে যায়নি। এই প্রসঙ্গে শুভ বলে:

‘তাদের সাথে সব ধরণের সমস্যার কথাই প্রকাশ করা যেত, হোক লেখাপড়ার বিষয়, কিংবা  ফিনান্সিয়াল কোনো ব্যাপারে,আবার হয়তো পার্সোনাল লাইফ এর কোনো ব্যাপারে। উনারা সব সময় আমাদের কে ঠিক পরামর্শ টা দিতেন । তাদের সঠিক পরামর্শ এবং তাদের এত ফ্যামিলিয়ার একটা পরিবেশ পেয়েই আমার আজ এত ভালো একটা ভার্সিটি তে এত ভালো একটা সাবজেক্ট এ পড়ালেখা করার সুযোগ হয়েছে।।

চায়না যাওয়ার গল্পটা ছিল এরকম-

‘চায়নাতে যাওয়ার আগে অনেক বাঁধাই সামনে এসেছিল তার মধ্যে একটা ছিল ভিসার জন্য এম্ব্যাসিতে দাঁড়ানো।  এম্ব্যাসি সকালবেলা খুললেও ভিসার জন্য বাইরে লাইন লেগে থাকত রাত থেকেই। কারণ,  চায়নাতে ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য সেশন থাকে শুধু মাত্র দুইটা মার্চ  এবং সেপ্টেম্বরে, এজন্য এই  সময় অনেক ভিড় থাকে | আমার মনে আছে,  রাত বারোটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে  সকাল ১১ টার সময় ভিসার জন্য এ্যাম্বাসিতে ঢুকতে পেরেছিলাম। চায়নাতে যেয়ে লেখাপড়া করতে পারব বলে আমার কাছে এসব বাধাকে  কিছুই মনে হলো না।’

‘আমার ভার্সিটি Yunnan  প্রভিন্স এ; এটাকে বলা হয় সিটি অফ ফ্লাওয়ার ( City of Flower)

কারণ, এই জায়গাটা চায়নার অন্য জায়গার তুলনায় অনেক সুন্দর । এছাড়া এখানকার আবহাওয়াটা না ঠান্ডা না গরম , অর্থাৎ নাতিশীতোষ্ণ, বাংলাদেশের মতো। এজন্য এখানে থাকতে আমাদের তেমন কোন সমস্যা হয় না ।’

এটা খুবই ইতিবাচক একটা দিক এবং ইউনিয়ন প্রভিন্স এর মধ্যে বেস্ট ভার্সিটি হলো Yunnan University. এখানে চান্স পাওয়াটা আসলে এক ধরনের ভাগ্যের ব্যাপার । তার উপরে সাবজেক্ট হলো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং যা কম্পিউটার সাইন্স থেকে অনেকটা আলাদা এবং তুলনামূলক নতুন |

ভার্সিটি লাইফ নিয়ে  শুভ যেমনটা বলেছে:

‘চায়নাতে ভার্সিটি জীবনটা মোটামুটি ঝামেলা মুক্তভাবে কেটে যায় রোজ । দিনে ২ থেকে ৩ ঘন্টা ক্লাস থাকে বাকি সময়টা আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যয় করি ।

সেটা হতে পারে লাইব্রেরীতে যেয়ে লেখাপড়া করে অথবা নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয় কিংবা গ্রাউন্ডে যেয়ে ফুটবল খেলা। আমি প্রতি সপ্তাহে আশেপাশে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলোতে যেতাম আমার ফ্রেন্ডের সাথে ইংলিশ কর্নার গুলোতে। এটা অনেকটা ইংলিশ ক্লাব এর মত,

এখানে সবাই তাদের ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ এবং স্পিকিং টা প্র্যাকটিস করতে পারে একে অপরের সাথে  । এখানে খুব ভালো একটা সামাজিকতার আদান-প্রদান হয়। সফটওয়্যার ডিপার্টমেন্টের অন্যতম ক্লাস মনিটর হওয়ার সাপেক্ষে অন্য ইউনিভার্সিটি তে যেয়ে আমার ইউনিভার্সিটি কে রিপ্রেজেন্ট করতে আমার ভালোই লাগে।

শুভর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

‘চায়নাতে আসার আমার মূল উদ্দেশ্য হলো লেখাপড়া করে একটা বিজনেস ক্যারিয়ার সেট করা । চায়না বাণিজ্যের দিক থেকে সেরা এবং এরা  প্রযুক্তির দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে। এমনকি এরা কেউ কখনই পেমেন্ট করার জন্য ক্যাশ রাখে না তাদের  যা দেখে আমি প্রথমে অবাক হই ।সবই হয় মোবাইল এবং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে মোবাইল ছাড়া এরা প্রায় কোন কাজই করেনা।  তাই আমার মতে, এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এ লেখাপড়া করে এবং এটা নিয়ে বিজনেস করতে হলে চায়না সবথেকে উত্তম জায়গা | এখানে আমি হাতে কলমে বিজনেস শেখার সুযোগ  পাচ্ছি এবং পাশাপাশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এ লেখাপড়া তেও এগিয়ে যাচ্ছি।