পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা By Mominul Huq Sir DIC

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

থুতু অথবা থু!

স. থুৎ > থুথু > থুতু।

এটা তুচ্ছ একটা জিনিস। তবু এ নিয়ে দুয়েকটি কথা বলা প্রয়োজন, যাতে, আমরা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি।

উন্নত দেশগুলোতে সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও রুচি উন্নত। তারা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। সেহেতু তারা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও থুতু ফেলে না। কিন্তু অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর চিত্র ভিন্ন।

মূল-মূত্র বর্জ্য পদার্থ। এগুলো আমরা ত্যাগ করি। কিন্তু থুতু ?

আমাদের মুখগহ্বরের লালাগ্রন্থি (salivary gland) থেকে নিঃসৃত একপ্রকার আঠাযুক্ত তরল পদার্থ হচ্ছে লালা বা লালারস। এগুলো মুখগহ্বরকে রাখে আর্দ্র- যার ফলে আমরা কথা বলতে পারি ;  খাদ্যদ্রব্য চিবিয়ে খেতে ও গিলতে পারি। সেহেতু লালারস-এর অন্য নাম পাচক রস । তাছাড়া লালারস অ্যানজাইম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ।  কিন্তু লালারস যখন মুখগহ্বর থেকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলি, তখনি আমরা একে বলি-  থুতু।

চিকিৎসাশান্ত্রমতে, থুতু বর্জ্য পদার্থ নয়। তবু আমরা যত্রতত্র থুতু ফেলি কেন? প্রথমত আমরা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতন। দ্বিতীয়ত এটা একটা বদভ্যাস।

আমাদের জানা প্রয়োজন, থুতুতে রোগ-জীবাণু মিশে থাকে। যেমন, যক্ষ্মার জীবাণু। তাছাড়া ভাইরাসজনিত বিভিন্ন রোগের জীবাণুও মিশে থাকে। ময়লা-আবর্জনা ও থুতু শুধু পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, সৌন্দর্যহানিকরও বটে। অতএব যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও থুতু ফেলা থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে।

কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা কী ?

শিক্ষার্থীরা আঙুলের ডগায় থুতু মেখে বইয়ের পাতা ওল্টায়, দোকানি আঙুলে থুতু মেখে ময়লা টাকা গোনে, লোকেরা পান খেয়ে যত্রতত্র পানের পিক ফেলে, রোজাদাররা রোজা রেখে ঘন-ঘন থুতু ফেলে। দুর্গন্ধ নাকে লাগলেই পথ-চলতি লোকেরা নাক-মুখ ঢাকে এবং থুতু ফেলে। যেন এগুলো আমাদের সংস্কৃতিরই অংশ। ধরা যাক, পথ চলতে গিয়ে কফ-থুতু বা কলার খোসায় পা-পিছলে একটা লোক মারাত্মকভাবে জখম হলো। এর দায় কে নেবে ?

থুঃ (Damn it !) – এর শিষ্ট কথ্যরূপ থু বা থুক। এটা ঘৃণা ও অবজ্ঞাসূচক শব্দ। যেমন, তুমি এতটা নীচ, থু! কাঁঠালের কোষগুলো পচা, থুক! বলা বাহুল্য যে, থুতুর সঙ্গে থু বা থুক সম্পর্কযুক্ত।

এটা ঠিক, থুতু একটা নোংরা বা বিচ্ছিরি জিনিস। কিন্তু এর নানা প্রকার ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য আছে।

ধরা যাক, দুজন পূর্ব-পরিচিত ভদ্রলোক রাস্তার দুদিক থেকে এগিয়ে আসছে। কাছাকাছি এসেই একজন রাস্তার পাশে ফিরে থুতু ফেলল। অন্য ভদ্রলোকটি কী ভাববে ? ওই থুতু বিরক্তি ও অবজ্ঞার ইঙ্গিত নয়তো?  তিনি নিঃসন্দেহে একটু বিব্রতই হবেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’-তে (১৯৪৮) বালিকাবধূ জমিলার নির্দয় বয়ষ্ক স্বামী মজিদ মৌলবির মুখে থুতু ছুঁড়ে দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে, তার এ আচরণের মর্মার্থ কী ? উত্তর হচ্ছে, এটা তার আত্মবক্ষার শেষ অস্ত্র। এটা তীব্র ঘৃণা ও অবজ্ঞার প্রতীক।

প্রবাদে আছে, ‘থুতু কেউ ওপরের দিকে ফেলে না।’ প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে কোথায় ফেলে ? উত্তর হচ্ছে, ডানে-বাঁয়ে বা আশেপাশে ফেলে। বলাই বাহুল্য যে, আমাদের সমাজে নিন্দুক ও ছিদ্রান্বেষী লোক বেশি। সেখান থেকেই এই প্রবাদের উৎপত্তি।

অতএব থুতু ক্ষুদ্র হলেও তুচ্ছ নয়। থুতু যত্রতত্র ফেলা সৌজন্যসূচকও নয়। সেহেতু কোনো-কোনো অফিস-আদালতের দেয়ালে লেখা থাকে- ‘যত্রতত্র থুতু ফেলবেন না।’

মমিনুল হক

সহকারী অধ্যাপক

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

Tags: No tags
0

Comments are closed.