Daffodil college Alumni Success story of Jawadul Islam Joy(DIC)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছে জাওয়াদুল ইসলাম জয়

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ২০১৭ – ২০১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মোঃ জাওয়াদ ইসলাম জয় জানালো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা।

২০১৯ সাল, সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে।  সবার মতই আমার ও আশা কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই শুরু করে দিলাম কোচিং। যদিও প্রথম প্রথম আমার ভিতরে অনেক ভয় কাজ করত। আমি মোটামুটি  কনফিডেন্ট ছিলাম কোথাও চান্স পাব না। যেহেতু ছোটকাল থেকে ছবি আঁকার প্রতি একটা নেশা ছিল তাই পরীক্ষা দিলাম প্রথমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চ’ ইউনিটে। ফলাফল পেয়ে খুশি তো হয়েছিই, অবাকও কম হইনি। বাবা-মা, ভাই-বোন ও বন্ধু সবার ইচ্ছায় ভর্তি হয়ে গেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদের “মৃৎশিল্প” বিভাগে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর অনেক কিছুই বদলে গেছে। যেটাকে আমি “positive change” হিসেবেই বিবেচনা করি। কলেজ জীবনে শিক্ষকদের কাছ থেকে আমার যা কিছু অর্জন তার সবটুকু ঢেলে দিয়েছি চারুকলা প্রাঙ্গণে। সামাজিকতা, মানুষের সাথে আচার – আচরণ যা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে । প্রাচ্যের এই অক্সফোর্ডে পড়ালেখা করেছেন দেশের বহু জ্ঞানি ও গুণীজন। হাজারো জ্ঞানের সমাহার এখানে যা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠার পর অনেক জ্ঞান অর্জন করেছি এবং এখনো করছি, কারন জ্ঞান অর্জনের কোন শেষ নেই। চারুকলায় পড়ার ফলে ছবি আঁকার অনেক প্লাটফর্মের সম্পর্কে জেনেছি, এবং আমার ছবি আঁকার মান উন্নত করতে সক্ষম হয়েছি। শিক্ষকরা মন দিয়ে শেখান। বড় ভাই ও আপুরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সহায়তা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ফলে বিভিন্ন সুযোগ পাচ্ছি। করোনা মহামারীর কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ না থাকলে বিভাগীয় বার্ষিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন করতে পারতাম। তবে লকডাউনে অনলাইন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন করেছি। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছি। হয়ত মহামারী না থাকলে আরো অনেক সুযোগ পেতাম। যাইহোক গত ২ বছর আগের আমি-র সাথে আজকের আমি অনেক পার্থক্য রয়েছে। ভবিষ্যতে ইন-শা-আল্লাহ আরো ভালো কিছু করবো। জীবনে এতদূর আশার পেছনে আমাকে সাহায্য করেছে আমার বাবা-মা-বোন, স্কুল ও কলেজের সকল শিক্ষক ও শিক্ষিকা, এবং আমার কয়েকজন বন্ধু। জাওয়াদ ইসলাম জয়ের পরিবারের জন্য ড্যাফোডিল পরিবারের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। 

Daffodil International College Blog(Alia Rawshan Banu)

The Importance of Reading Skills and the Challenges our Students face while Reading an English text

English is used almost everywhere around the world as a mode of communication and contact
with people for different purposes. So, English is taught and learnt as foreign or second language for
communication, higher study and getting a good job etc. In Bangladesh, English is taught as foreign
language and is considered as compulsory from primary to tertiary education. To learn the language
effectively, we need to achieve mastery over the four basic skills of language learning such as Reading,
Writing, Listening and Speaking. In order to gain expertise in these skills, the students have to follow
some strategies thoroughly and appropriately.
Among the four basic skills of language learning, reading is one of the most important skills in
which the students of English as Foreign Language (EFL) must achieve proficiency in order to learn
the target language successfully. During our waking hours, we read in a way or another. For example,
we read newspapers, books, articles, letters, emails or have a glimpse at the headlines or signboards or
the label of any packet or bottle of medicine etc. So, reading is the most significant part of language
learning because it helps the learners develop other related skills like grammar, vocabulary,
pronunciation, fluency in speaking and writing also. For this purpose, the use of different reading
strategies are emphasized greatly to improve students’ basic reading skills and this article aims to
explore the challenges of reading skills among the students of Bangla Medium Institutions of our
country while reading an unknown English text.
In recent decades, improvement in reading skills have been one of the main areas of interests.
Due to ever increasing demand of reading in every aspect of our life, it is essential to find new methods
or techniques to improve students’ reading skills. Effective reading strategies are essential for the
improvement of reading skills and they should be promoted in English language teaching. Our students
don’t find interest in reading because of the vocabulary problem and the obstacles in pronouncing new
words. While reading an unknown English text, they have been found stammering and this makes
them reluctant to continue reading.
As the students have poorer knowledge in English vocabulary, they are not motivated in reading English
text. Though the learners use social media 3-4 hours per day, they usually avoid using English rather they chat in
Bangla using English alphabet which makes them devoid of learning English properly and effectively. So, to
solve this problem, the students should be motivated to use and utter English words as much as possible. They
need to pronounce the new words and learn the meaning of the words and use those words in daily
communication. The more they will utter the new English words, the more they will be habituated with those
words and feel comfortable in reading the unknown text.
Some recommendations are given below to meet the challenges of reading an English text:
 Focusing on English vocabulary building.
 Being aware of the correct English pronunciation.
 Encouraging the students to use English words.
 Following different strategies in English classrooms.
 Reading the text with pleasure and interest.
 Motivating the students to participate in reading willingly.
 Growing a habit of reading from early childhood.

-Alia Rawshan Banu

Sr. lecturer

Daffodil International College

Daffodil International College Blog(Afroza Sultana)

মাশরুম-ওষুধ, টনিক ও হালাল সবজি

মাশরুম-ওষুধ, টনিক ও হালাল সবজি
মাশরুম-ওষুধ, টনিক ও হালাল সবজি

মাশরুম অত্যন্ত সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং ঔষধি গুণসম্পন্ন সবজি, যা সম্পূর্ণ হালাল। মাশরুম Fungi রাজ্যের Eumycota বিভাগের Basidiomyoetes শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত পরজীবি ছত্রাক। অনেকের ধারণা ব্যাঙের ছাতাই মাশরুম। কিন্তু ব্যাঙের ছাতা এবং মাশরুম এক জিনিস নয়। ব্যাঙের ছাতা প্রাকৃতিকভাবে যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা বিষাক্ত ছত্রাক। আর মাশরুম হলো গবেষণাগারে উদ্ভাবিত বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষ করা খাওয়ার উপযোগী ছত্রাক।

প্রকৃতিতে অসংখ্য মাশরুম রয়েছে। তার মধ্যে ২ হাজার মাশরুম ভক্ষণযোগ্য হলেও বিশ্বে মাত্র ২০ টি জাতের মাশরুম চাষ করা সম্ভব হয়েছে এবং কিছু কিছু বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ঝিনুক, কান, বোতাম, ঋষি, খড় ও শিতাকে মাশরুম চাষ করা সম্ভব।

মাশরুমের স্পোর গজিয়ে যে হাইফা তৈরি হয় , সেই হাইফা সমষ্টি বা মাইসেলিয়াসকে “স্পন” বলা হয়। টিস্যু কালচারের মাধ্যমেও মাশরুমের কোষকলা থেকে স্পন উৎপাদন করা হয়। এই স্পনের মাধ্যমেই মাশরুমের চাষ করা হয়ে থাকে। মাশরুম চাষের জন্যে আবাদি জমি দরকার হয় না। অসবুজ হওয়ায় সূর্যালোকের প্রয়োজন হয় না বিধায় ঘরের মধ্যেই চাষ করা যায়। অপরদিকে বাংলাদেশের জলবায়ু, আবহাওয়া মাশরুম চাষের অত্যন্ত উপযোগী। মাশরুম চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ অত্যন্ত সস্তা এবং সহজলভ্য। তাই চাষিরা কম পুঁজি ও অল্প শ্রমে মাশরুম সেন্টার থেকে স্পনভর্তি সাবস্ট্রেটসহ পিপি ব্যাগ সংগ্রহ করে । যে কোন ছোট পরিসরে কাঠ বা বাঁশের তাকে সারিবদ্ধভাবে চাষ করে অল্প সময়ে(৭-১০ দিন) মাশরুম পেতে পারেন, যা বিশ্বের কোনো ফসলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মাশরুম তাজা অবস্থায় পিপি ব্যাগে ভরে সিল করে ফ্রিজে রাখলে বেশ কয়েকদিন ভালো থাকে। তাছাড়া তিন চারদিন রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায় এবং শুকনো মাশরুম ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

মাশরুম-ওষুধ, টনিক ও হালাল সবজি-
মাশরুম-ওষুধ, টনিক ও হালাল সবজি-

প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো মাশরুমের পুষ্টিগুণ

প্রোটিন: ২৫-৩৫%, ফ্যাট: ৪-৬% ভিটামিন ও খনিজ: ৫৭-৬০%, কার্বোহাইড্রেট: ৫%-৬%। উন্নত বিশ্বে মাশরুম অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। বর্তমানে বাংলাদেশে চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ও বড় বড় হোটেল এবং ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পছন্দের কারণে সবজি হিসেবে মাশরুম খাওয়ার প্রচলন শুরু হয়েছে। মাশরুমের মুখরোচক স্বাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে প্রাচীনকাল থেকেই উন্নত বিশ্বের মানুষ খাদ্য তালিকায় মাশরুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যবহৃত হতো অসাধারণ লোভনীয় স্বাদের মাশরুম। বিশ্বব্যাপী ভোজন রসিকরা মাশরুমের স্বাদকে তুলনা করেন মাংসের সাথে। আর সে কারণে মাশরুমকে বলা হয় সবজি মাংস।

মাশরুম এমন একটি সবজি যা বিচিত্রভাবে আমাদের দেশীয় পদ্ধতিতে মাংস, ছোট-বড় যে কোনো মাছ, সবজি প্রভৃতি যে কোনো আইটেমের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে রান্না করলে খাবারের স্বাদ বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই-ই নয়, বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুডে (বার্গার, স্যান্ডউইচ, শিঙ্গাড়া, নুডুলস, ফ্রাই) মাশরুম ব্যবহার করে জনপ্রিয় সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়।

বিদেশে মাশরুম ‘ওষুধ, টনিক ও খাদ্য’ একের ভেতরে তিন হিসেবে পরিচিত।

তাই,

‘রোগমুক্ত স্বাস্থ্য চান

নিয়মিত মাশরুম খান’

কারণ

মাশরুম শরীরের জমাকৃত কোলেস্টেরল মুক্ত করে। এতে রয়েছে কোলেস্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, নোভাস্টানিন এবং এনটাডেনিন।

মাশরুমে যথেষ্ট পরিমাণ আঁশ থাকায় শরীর স্লীম রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

কমচর্বি। কোলেস্টেরলমুক্ত এবং লিনোলেয়িক এসিডসমৃদ্ধ হওয়ায় মাশরুম হৃদরোগীদের জন্যেও অত্যন্ত উপকারী খাবার।

মাশরুম এমন একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন সবজি এবং টনিক যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ডায়াবেটিক, উচ্চরক্ত চাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার ও টিউমার, হেপাটাইটিস-বি, জন্ডিস, এইডস, প্রভৃতি দুরারোগ্য ব্যাধির প্রতিরোধক।

শুধু তাই নয়, নিয়মিত মাশরুম খেলে শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। মেরুদণ্ড দৃঢ় হয়, ব্রেইন সুস্থ থাকে, এমনকি চুল পড়া ও চুল পাকা বন্ধ করে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মাশরুম একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ফসল। শুধু তাই নয়, মাশরুম চাষের মাধ্যমে এ দেশের পুষ্টি উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এমনকি বিশ্বব্যাপী এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলো বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে যে কেউ অল্প পুঁজি ও অল্প পরিশ্রমে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। নিয়মিত মাশরুম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলে নিজেকে রাখতে পারেন রোগমুক্ত ও সুস্থ সবল।

-আফরোজা সুলতানা

সিনিয়র প্রভাষক, জীববিজ্ঞান।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

Daffodil International College Blog(Nilufa Yeasmin)

সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি? বাবা না মা !

আমাদের সমাজসংসারে প্রচলিত আছে, সন্তান ছেলে বা মেয়ে হবার জন্য দায়ী মা। এই প্রচলিত কথাটা মোটেই সত্য নয়। আসল সত্য টা না জানায় অনেক মাকে সংসার ত্যাগ করতে হয়,মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়, এমন কি অনেক মাকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়। অথচআসল সত্য টা হলো যে, সন্তান ছেলে বা মেয়ে হবার জন্য দায়ী বাবা, মা নয়। আমাদের বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, তাই এই কথাটা যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম এবং দৈনিক পত্রিকায় বেশি বেশি সরকারীভাবে প্রচার করা হয়, তাহলে আমাদের মায়েরা এই নির্মম অসত্য থেকে মুক্তি পাবে।

সন্তান ছেলে হবার জন্য যে বাবা দায়ী এই নির্মম সত্যির আমি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিচ্ছি- 

মানুষের প্রতিকোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম রয়েছে, এর মধ্যে ২২ জোড়া নারী ও পুরুষ উভয় সদস্যে একই রকম, সেগুলোকে বলা হয় অটোজোম। ১ জোড়া ক্রোমোজোম নারী ও পুরুষ সদস্যে আলাদা, এদেরকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম। নারীসদস্যে যেসব গ্যামেট তৈরি হয় তাতে শুধু X ক্রোমোজোম থাকে, এ কারণে নারীকে হোমোগ্যামেটিক (XX) বলে। পুরুষ সদস্যে দু ধরনের গ্যামেট তৈরি হয়, এক ধরনের গ্যামেটে থাকে X ক্রোমোজোম এবং অন্য  গ্যামেটে  থাকে Y ক্রোমোজোম, পুরুষকে তাই হেটারোগ্যামেটিক (XY) বলে। স্ত্রী শুধুমাত্র এক ধরনের ডিম্বাণু (X) উৎপন্ন করে। কিন্তু পুরুষ ২ ধরনের শুক্রাণু (X এবং Y) উৎপন্ন করে। যখন X বাহী ডিম্বাণুর সাথে X বাহী শুক্রাণুর মিলন হবে, তখন সন্তান হবে কন্যা (XX) এবং যখন X ডিম্বানুর সাথে Y বাহী শুক্রাণুর মিলন হবে, তখন সন্তান হবে ছেলে (XY)।

এই ব্যাখ্যা থেকে আমরা আরও স্বচ্ছ ধারণা নিলাম যে, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে দায়ী বাবা।

-নিলুফা ইয়াসমিন

সিনিয়র প্রভাষক, জীববিজ্ঞান।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

লালসালু: একটি মাজারের কাহিনী:Daffodil International College Blog(Mominul Huq)

লালসালু: একটি মাজারের কাহিনী

পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীনের (১৯০৩ – ১৯৭৬) ‘কবর’ কবিতাটি ‘রাখালী’ (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এটি গল্পনির্ভর একটি করুণ রসাত্মক কবিতা। কবিতার শ্রেণি-বিচারে এটি শোক কবিতা (Elegy)। মুনীর চৌধুরীর (১৯২৫ – ১৯৭১) ‘কবর’ (রচনাকাল ১৯৫৩) একাঙ্কিকা। এটি ১৯৫২-র ভাষা সংগ্রামের আবহে রচিত। তৃতীয়টি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এর (১৯২২ – ১৯৭১) উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)। এরও বিষয়বস্তু একটি কবর বা মাজার।
‘লালসালু’তে বর্ণিত মহব্বতনগর শস্য সমৃদ্ধ প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। গ্রামটিতে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার আলো পৌঁছেনি। মজিদ মৌলবি হঠাৎ একদিন ওই গ্রামে এসে নাটকীয়ভাবে একটি মাজার প্রতিষ্ঠা করল। এরপর সে গ্রামীণ জীবনের মঞ্চে একজন ধর্মীয় নেতা তথা দক্ষ অভিনেতারূপে আবির্ভূত হলো। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ নির্মোহ ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন। মজিদ মৌলবির গতিবিধি, গোপন অভিপ্রায় ও কার্যকলাপ তাকে আর দশজন গ্রামবাসী থেকে স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট করে তুলেছে। লেখকের মতে – ‘মাজারটি তার শক্তির মূল।’ অর্থাৎ সে ‘মাজারের মুখপাত্র’ বা খাদেম। মাজারটিকে কেন্দ্র করেই তার উত্থান ও শ্রীবৃদ্ধি। নইলে মহব্বতনগর গ্রামে সে একজন দরিদ্র ও ছিন্নমূল বহিরাগত (Outsider) মাত্র।
‘কবর’ ও ‘মাজার’ আরবি শব্দ, কিন্তু দুয়ের মাজেজা আলাদা। কবর সাধারণ সমাধি- যার বিশেষ যত্ন হয় না। কিন্তু মাজার হচ্ছে পির-দরবেশের সমাধি- যার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী থাকে। মাজার পবিত্র ও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ স্থান। সেহেতু প্রচলিত রীতি অনুযায়ী মাজার লালসালুতে ঢাকা থাকে। আলোচ্য বইটিতে কখনো ‘কবর’ (কার কবর এটা?), কখনো ‘মাজার’ (মাছের পিঠের মতো মাজার) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। আমাদের ধারণা, এর মধ্যে একটা বৈপরীত্য (Paradox) আছে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরে অসংখ্য মাজার দেখা যায়। কিন্তু সে-সব মাজারে কি ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষিত হয়? সে-সবের কয়টি আসল এবং কয়টি নকল মাজার?
‘লালসালু’তে মজিদ মৌলবির মুখে গ্রামবাসী যে স্বপ্নবৃত্তান্ত (মাজার প্রতিষ্ঠার গল্প) শুনেছে, তা আষাঢ়ে গল্পমাত্র। যে পির আসলে মরেনি, কবরে জেন্দা আছে- সে হচ্ছে ‘মোদাচ্ছের’ পির। গ্রামবাসী যে মোদাচ্ছের (জীবিত) পিরের মাজারে এসে যাবতীয় বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি কামনা করেছে, তা শিরক্। ইসলাম ধর্মমতে, মুফতি ফতোয়া দেওয়ার যোগ্য। কিন্তু মজিদ মৌলবি (মক্তবের মৌলবি) যে ফতোয়াবাজি করেছে, তা সম্পূর্ণরূপে বেদাত। স্ত্রীলোকের সন্তান হওয়া না-হওয়া সম্পর্কে মজিদ মৌলবি যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা ধর্মবিরোধী। ইসলাম ধর্মমতে, জেকের এক প্রকার এবাদত। কিন্তু মজিদ মৌলবি মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত-মুরিদ সহ যে জেকের অনুষ্ঠান করেছে, তা সম্পূর্ণরূপে বেদাত। মূলকথা হচ্ছে মজিদ মৌলবির কাছে ধর্ম স্বার্থসিদ্ধির একটা মোক্ষম অস্ত্র। ধর্মীয় দৃষ্টিতে সে পথভ্রষ্ট ও মোনাফেক। সে ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়েছে। সে মিথ্যাচার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তার ঈমান-আকিদা খুবই দুর্বল। কিন্তু সরল ও ধর্মভীরু গ্রামবাসী তাকে ধোঁকাবাজ ভাবেনি বা তাকে সন্দেহ ও অবিশ্বাস করেনি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কেন ‘লালসালু’ লিখেছেন? ইসলাম ধর্মমতে, কবর বা মাজার জেয়ারত করা সুন্নত, কিন্তু মাজারপূজা শিরক্ ও বেদাত। অর্থাৎ মাজারপূজা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। অথচ বিশ্বাসী ব্যক্তিমাত্রই জানেন, মাজার পবিত্র স্থান। এখানে স্মরণীয় যে, ১৯৪৭-এ পাকিস্তান রাষ্ট্রেটির সৃষ্টি। এর মাত্র এক বছর পর ‘লালসালু’ রচিত। পাকিস্তান যে ‘ফাঁকিস্তান – ধর্মীয় নিপীড়ন ও শোষণ-বঞ্চনার লীলাক্ষেত্র, আলোচ্য বইটিতে সে- ইঙ্গিতই করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ‘অহিংসা’ (১৯৪১), ‘হুযুর কেবলা’ ও ‘দেবতার জন্ম’ রচনা-তিনটির কথা উল্লেখযোগ্য। প্রথমটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৯০৮ – ১৯৫৬) লেখা উপন্যাস, দ্বিতীয়টি ও তৃতীয়টি যথাক্রমে আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮ – ১৯৭৮) ও শিবরাম চক্রবর্তীর (১৯০৩ – ১৯৮০) লেখা ছোটগল্প। এগুলোতেও কপট ধর্মগুরুদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। 

বাংলাদেশের একটি চিহ্নিত গোষ্ঠি ‘লালসালু’কে ‘বিতর্কিত’ মনে করেন। তাদের মতে, বইটিতে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। ‘লালসালু’তে মজিদ মৌলবি একজন কপট ধর্মগুরু, কিন্তু সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ গ্রামবাসীদের কাছে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করেননি। তিনি পিরপ্রথা ও মাজারপ্রথার ত্রুটি ও অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি অন্ধ বিশ্বাসী নন, বরং একজন সত্যনিষ্ঠ ও মানবহিতৈষী লেখক। তবে কেউ চাইলে ‘লালসালু’তে কার্ল মার্কসের (১৮১৮ – ১৮৮৩) দূরবর্তী ছায়াও খুঁজে পাবেন।

-মমিনুল হক

সহকারি অধ্যাপক, বাংলা

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

Daffodil College Alumni Students(Anik Halder)

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এ ইলেকট্রনিকস এন্ড টেলিকমউনিকেসন বিভাগে আমাদের অনিক হালদার

অনিক হালদার, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ২০১৫-১৬ সেশনের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। সে ২০১৭ সালে এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে। বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এ ইলেকট্রনিকস এন্ড টেলিকমউনিকেসন (ETE) বিভাগে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছে।
আমাদের গল্পের দশম পর্বে অনিক হালদার তার স্মৃতিচারণ করেছে এভাবেই –

স্কুলে থাকাকালীন সময়ই চিন্তা ছিলো ঢাকায় কোনো কলেজে ভর্তি হব। বড় ভাই ড্যাফোডিল কলেজে পড়াশোনা করায় ভর্তি হলাম ড্যাফোডিল কলেজেই। কলেজের সব শিক্ষকবৃন্দ প্রথম থেকেই ভালো করে চিনতো এবং সকলেই অনেক স্নেহ করতেন। কলেজের সকল শিক্ষকবৃন্দ খুবই আন্তরিক ছিলেন, সকলেই খুব যত্নসহকারে পড়াতেন। পড়াশোনার কোনো বিষয়ে সমস্যা থাকলে কলেজ ছুটির পরেও শিক্ষকদের কাছে গেলে তারা সময় নিয়ে বুঝিয়ে দিতেন ৷ কলেজে পড়াকালীন ইন্জিনিয়ারিং – এ পড়ার চিন্তা মাথায় ছিলো। সেই চিন্তা নিয়েই পড়াশোনা করে যাচ্ছিলাম। দেখতে দেখতে এইচ এস সি পরীক্ষা চলে আসলো। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর, ইন্জিনিয়ারিং ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করলাম। প্রায় দুইমাস পর এইচ এস সি রেজাল্ট হলো; অল্পের জন্য এ+ পেলাম না তখন, ভাবলাম হয়তো আর ইন্জিনিয়ারিং পড়া হবেনা।

কয়েকদিন মন খারাপ ছিল কিন্তু এভাবে তো জীবন চলবে না; তাই ভালমত পড়াশোনা শুরু করলাম আর ভাবলাম, যেভাবেই হোক ভালো একটা ভার্সিটিতে চান্স পেতেই হবে। 

কিছুদিন পর সার্কুলারে দেখলাম বুয়েট ছাড়া বাকি সব ইন্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিগুলোতে পরীক্ষা দিতে পারবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম, রেজাল্ট হলো কিন্তু পজিশন ভাল না। রাজশাহীতে গেলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে। রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকলাম, সকালে উঠে পরীক্ষা দিলাম। তারপরদিন আরো একটা ইউনিট এ পরীক্ষা দিয়ে কলেজর বন্ধু কামরুল সহ আরো কয়েকজন চলে গেলাম পাবনার উদ্দেশ্য। পরদিন বিকেলে পরীক্ষা দেওয়ার পর সন্ধ্যার পরপর ঈশ্বরদী স্টেশনে চলে আসলাম ঢাকা আসবো বলে, ঐ দিন বাসের কোনো টিকিট ছিলোনা তাই ট্রেনই ছিলো একমাত্র ভরসা। স্টেশনে এসে কোনো টিকিট না পাওয়ায় রাতে স্ট্যান্ডিং টিকেট কাটলাম। সেই রাতটি ছিল আামার জীবনে স্মৃতিময় একটি রাত। স্টেশনে আসার পর দুই-তিন জনের সাথে পরিচয় হলো। ট্রেন আসার কথা রাত ১১ টায় হলেও ট্রেন আসলো রাত ১ টার পর। যাদের সাথে স্টেশনে পরিচয় হলো তাদের সাথে আমরা ট্রেনে উঠলাম। উঠার পর দেখলাম পুরো বগি ভরা এডমিশন ক্যান্ডিডেট।  একজন দুইজন করে ১০-১২ জনের একটা সার্কেল হয়ে গেলো।  পুরোরাত সকলে গল্প গুজব করে কাটিয়ে দিলাম। একদল অচেনা মানুষের সাথে এতো সুন্দর একটা রাত পার হবে সেটা কল্পনার বাইরে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট হলো সেখানে মেরিট লিস্টে নাম দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হলাম তখনো রুয়েট এর পরীক্ষা হয়নি। কিছুদিন পর আবার রাজশাহীতে গেলাম রুয়েট এর ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। পরীক্ষা দিয়ে মনে হলো হয়তো ভাল পজিশন আসবে। দুপুরেই বাসে উঠলাম সিলেটের উদ্দেশ্যে। দুপুর থেকে প্রায় ভোর পর্যন্ত বাসেই কাটে গেল। রুয়েট এর রেজাল্ট দিলো, মনের ভিতর কিছুটা সংশয় নিয়ে রেজাল্ট দেখতে ঢুকলাম। পজিশন দেখে মনে হলো হয়তো ইন্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হতে পারব। সেই মুহূর্তের অনুভূতি বলে প্রকাশ করা যাবেনা। তার কয়েকদিন পর ভর্তির জন্য ডাক পড়ল। সব কাগজ এবং কিছু মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে ভর্তি হতে গেলাম। ভর্তির পর মনে হলো মাথা থেকে ভারী বোঝাটা নামল। ভর্তির পর বিকেলে একটা মেস ঠিক করে তার পরদিন ঢাকায় ফিরে আসলাম।

এক মাস পর থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার ডেট পেলাম। এক মাস দেখতে দেখতে কেটে গেল। পরিবার থেকে অনেক দূরে যাচ্ছি এই নিয়ে মনে সংশয় ছিলো, কিভাবে সবার সাথে মানিয়ে উঠবো! এই সংশয় নিয়ে পরদিন সকালে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তারপরের দিন ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের জন্য ক্যাম্পাসে চলে গেলাম। সেখানে আমার নিজের ডিপার্টমেন্টের কয়েকজনের সাথে পরিচয় হল। পরদিন সকালে ক্লাসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। প্রথম ক্লাসে সব শিক্ষক আমাদের সবার পরিচয় নিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে অনেক ধারণা এবং কিছু উপদেশ দিলেন। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, সবার সাথে মানিয়ে চলা শুরু করলাম। নতুন শহরে ঘুরাঘুরি এবং সবার সাথে আড্ডা দিতে দিতে দিন কাটতে লাগল। দেখতে দেখতেই পায় প্রথম সেমিস্টার এক্সাম চলে আসলো। প্রথম সেমিস্টারের ফিজিক্স ল্যাব পরীক্ষা নিয়ে বেশ ভয়ে ছিলাম। বোর্ড ভাইভা ছিল নতুন আরেক অভিজ্ঞতা। আস্তে আস্তে সবকিছুতে মানিয়ে উঠলাম। প্রায় দেড় বছর পর একটা টিউশন ম্যানেজ করলাম। এভাবেই  চলতে থাকলো জীবন। ভবিষ্যতে বিদেশে গিয়ে পড়াশোনার ইচ্ছে আছে। সকলে দোয়া করবেন যাতে, আমি আমার লক্ষ্যে পৌছাতে পারি।

Daffodil College Alumni Students(Fazlay Rabbi Shuvo)

সুদূর চীনের Yunnan University তে Software Engineering এর স্বপ্ন পূরণের পথে আমাদের শুভ

ফজলে রাব্বি শুভ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ২০১৬ – ২০১৭ সেশনের একজন ছাত্র। বর্তমানে  চীনের একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি তে ( Yunnan University, Kunming, China ) সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং- এ লেখাপড়া করছে।

২০১৮ সালে এইচএসসি পাশ করার পরে, বাংলাদেশ থেকে চীনে পৌঁছানোর গল্পটা শুভর মুখ থেকেই শোনা যাক্:

‘আমার মতে, বর্তমান কে মনে করে অতীত কে ভুলে যাওয়া মোটেও উচিত না। DIC-

তে আমার কাটানো সময় টা শুধু ২ বছর হলেও এটা ছিলো আমার দ্বিতীয় হোম।’ শুভর কলেজ লাইফটা ছিলো একটু অন্যরকম।

সে বলেছে ‘রোজ সকালে সবার আগে এখানে আসাটা প্রায় আমার একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। যখন কলেজের গেইটও খুলতো না; আমি শুভ হাজির হয়ে যেতাম আমার প্রিয় প্রাঙ্গণে। সেই ভোর ৬ টায় এসে ক্লাস শেষ করে, বাসায় যেতাম সন্ধ্যা ৬ টায়। দিনের বেশিরভাগ সময় এখানে কাটত আমার,ঠিক আমার বাসার মতো।‘

এছাড়াও এখানকার স্যার, ম্যাডামরা ফ্যামিলি মেম্বার থেকে কোনো অংশে কম ছিলেন না। কোন কোন শিক্ষককে দেখে ভয় পেতাম; পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখতে ভুল করলে বকাঝকা যেমন খেয়েছি, সঠিক লিখার জন্য প্রশংসাও পেয়েছি। শিক্ষাগুরু তো এমনই হয়।’

শুভর বিদেশে পড়তে যাওয়ার পেছনে নিজের ইচ্ছা, বাবা-মাযের উৎসাহের পাশাপাশি শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতার কথাও সে ভুলে যায়নি। এই প্রসঙ্গে শুভ বলে:

‘তাদের সাথে সব ধরণের সমস্যার কথাই প্রকাশ করা যেত, হোক লেখাপড়ার বিষয়, কিংবা  ফিনান্সিয়াল কোনো ব্যাপারে,আবার হয়তো পার্সোনাল লাইফ এর কোনো ব্যাপারে। উনারা সব সময় আমাদের কে ঠিক পরামর্শ টা দিতেন । তাদের সঠিক পরামর্শ এবং তাদের এত ফ্যামিলিয়ার একটা পরিবেশ পেয়েই আমার আজ এত ভালো একটা ভার্সিটি তে এত ভালো একটা সাবজেক্ট এ পড়ালেখা করার সুযোগ হয়েছে।।

চায়না যাওয়ার গল্পটা ছিল এরকম-

‘চায়নাতে যাওয়ার আগে অনেক বাঁধাই সামনে এসেছিল তার মধ্যে একটা ছিল ভিসার জন্য এম্ব্যাসিতে দাঁড়ানো।  এম্ব্যাসি সকালবেলা খুললেও ভিসার জন্য বাইরে লাইন লেগে থাকত রাত থেকেই। কারণ,  চায়নাতে ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য সেশন থাকে শুধু মাত্র দুইটা মার্চ  এবং সেপ্টেম্বরে, এজন্য এই  সময় অনেক ভিড় থাকে | আমার মনে আছে,  রাত বারোটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে  সকাল ১১ টার সময় ভিসার জন্য এ্যাম্বাসিতে ঢুকতে পেরেছিলাম। চায়নাতে যেয়ে লেখাপড়া করতে পারব বলে আমার কাছে এসব বাধাকে  কিছুই মনে হলো না।’

‘আমার ভার্সিটি Yunnan  প্রভিন্স এ; এটাকে বলা হয় সিটি অফ ফ্লাওয়ার ( City of Flower)

কারণ, এই জায়গাটা চায়নার অন্য জায়গার তুলনায় অনেক সুন্দর । এছাড়া এখানকার আবহাওয়াটা না ঠান্ডা না গরম , অর্থাৎ নাতিশীতোষ্ণ, বাংলাদেশের মতো। এজন্য এখানে থাকতে আমাদের তেমন কোন সমস্যা হয় না ।’

এটা খুবই ইতিবাচক একটা দিক এবং ইউনিয়ন প্রভিন্স এর মধ্যে বেস্ট ভার্সিটি হলো Yunnan University. এখানে চান্স পাওয়াটা আসলে এক ধরনের ভাগ্যের ব্যাপার । তার উপরে সাবজেক্ট হলো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং যা কম্পিউটার সাইন্স থেকে অনেকটা আলাদা এবং তুলনামূলক নতুন |

ভার্সিটি লাইফ নিয়ে  শুভ যেমনটা বলেছে:

‘চায়নাতে ভার্সিটি জীবনটা মোটামুটি ঝামেলা মুক্তভাবে কেটে যায় রোজ । দিনে ২ থেকে ৩ ঘন্টা ক্লাস থাকে বাকি সময়টা আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যয় করি ।

সেটা হতে পারে লাইব্রেরীতে যেয়ে লেখাপড়া করে অথবা নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয় কিংবা গ্রাউন্ডে যেয়ে ফুটবল খেলা। আমি প্রতি সপ্তাহে আশেপাশে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলোতে যেতাম আমার ফ্রেন্ডের সাথে ইংলিশ কর্নার গুলোতে। এটা অনেকটা ইংলিশ ক্লাব এর মত,

এখানে সবাই তাদের ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ এবং স্পিকিং টা প্র্যাকটিস করতে পারে একে অপরের সাথে  । এখানে খুব ভালো একটা সামাজিকতার আদান-প্রদান হয়। সফটওয়্যার ডিপার্টমেন্টের অন্যতম ক্লাস মনিটর হওয়ার সাপেক্ষে অন্য ইউনিভার্সিটি তে যেয়ে আমার ইউনিভার্সিটি কে রিপ্রেজেন্ট করতে আমার ভালোই লাগে।

শুভর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

‘চায়নাতে আসার আমার মূল উদ্দেশ্য হলো লেখাপড়া করে একটা বিজনেস ক্যারিয়ার সেট করা । চায়না বাণিজ্যের দিক থেকে সেরা এবং এরা  প্রযুক্তির দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে। এমনকি এরা কেউ কখনই পেমেন্ট করার জন্য ক্যাশ রাখে না তাদের  যা দেখে আমি প্রথমে অবাক হই ।সবই হয় মোবাইল এবং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে মোবাইল ছাড়া এরা প্রায় কোন কাজই করেনা।  তাই আমার মতে, এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এ লেখাপড়া করে এবং এটা নিয়ে বিজনেস করতে হলে চায়না সবথেকে উত্তম জায়গা | এখানে আমি হাতে কলমে বিজনেস শেখার সুযোগ  পাচ্ছি এবং পাশাপাশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এ লেখাপড়া তেও এগিয়ে যাচ্ছি।

DIC Principal Sir Blog

পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ পালনের ইতিকথা

বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ উপলক্ষ্যে এর প্রেক্ষিত সম্পর্কে সুহৃদ পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। প্রারম্ভেই বলে রাখি, বাঙালি উৎসব ও আনন্দপ্রিয় জাতি।পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানা উপলক্ষ্যে তারা আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। সেসবের মধ্যে ব্যতিক্রমী হয়ে আবিভর্‚ত হয় বাংলা নববর্ষ যার স্বাদ, গন্ধ ও আবেদন অন্যান্য উৎসব হতে একেবারেই আলাদা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সব মানুষ, সব বাঙালি সকল সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে সমগ্রজাতি একই হৃদয়াবেগে একটি মোহনায় মিলিত হয়ে পালন করে এই সর্বজনীন উৎসব। চিরায়ত বাঙালিত্বের অহংকার আর সংস্কৃতির উদার আহবানে জাগরক হয়ে নাচে-গানে, গল্পে-আড্ডায়, আহারে-বিহারে চলে নতুন বছরকে বরণ করার পালা। বাংলা নববর্ষ তাই বাঙালিদের জীবনে সবচেয়ে বড় সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। এর মাধ্যমে জাতি তার স্বকীয়তা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার শক্তি সঞ্চয় করে; সচেষ্ট হয় আত্মপরিচয় ও শিকড়ের সন্ধানে। এরূপ নববর্ষই বাঙালি জাতিকে ইস্পাত-কঠিন ঐক্যে আবদ্ধ করেছিল, শক্তি ও সাহসের সঞ্চার করে স্বাধীকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রেরণা জুগিয়েছিল। কবিগুরুর ভাষায়-

‘‘নব আনন্দে জাগো আজি নব রবির কিরণে
শুভ সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে।
অমৃত পুষ্প গন্ধ বহ শান্তি পবনে
দেহে মনে নির্ভেজাল আনন্দ উপভোগে।”
নববর্ষ বিদায়ী বছরের গ্লানি মুছে দিয়ে বাঙালি জীবনে ওড়ায় নতুনের কেতন, চেতনায় বাজায় মহামিলনের সুর। সব ভেদাভেদ ভুলে সব বাঙালিকে দাঁড় করায় এক সম্প্রীতির মোহনায়। নববর্ষের আগমনী ধ্বনি শুনলেই সমগ্রজাতি নতুনের আহবানে জেগে ওঠে। গ্রামের জীর্ন-কুটির হতে বিলাস বহুল ভবন কিংবা দূর প্রবাসের মেগাসিটি- সর্বত্রই প্রবাহিত হয় আনন্দের ফল্গুধারা।
আবহমান বাংলার চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক মানবিক চেতনার মূলে রয়েছে এক অসাধারণ অনুষঙ্গ সেটি হল বাংলা নববর্ষ তথা পহেলা বৈশাখ। ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় বাংলা বর্ষবিদায় ও বরণের অনুষ্ঠানমালা তাই আমাদের সেই ঐতিহাসিক চেতনাকে প্রোজ্জ্বল করে। স্বদেস মানস রচনায় বাঙালি সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য সর্বোপরী ইতিহাসের আলোকে রক্ষণশীল ও পশ্চাৎপদ চিন্তা-চেতনাকে পরিহার করে আধুনিক ও প্রাগ্রসর অভিধায় জাতিসত্বাকে যথাযথ প্রতিভাত করার সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি বাংলা নববর্ষকে দান করেছে অনবদ্য মাঙ্গলিক যাত্রাপথ। তবে বাঙালির নববর্ষ সব বাঙালির কাছে একভাবে আসেনি। কারো কছে এসেছে খরা হয়ে, কারো কাছে খাজনা দেওয়ার সময় হিসেবে, কারো কাছে বকেয়া আদায়ের হালখাতা হিসেবে, কারো কাছে মহাজনের সুদরূপে আবার কারো কাছে এসেছে উৎসব হিসেবে।
উল্লেখ্য যে, হিজরি সনকে উপেক্ষা নয় বরং হিজরি ৯৬৩ সালকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে শুধুফসল তোলার সময়কে সৌরবর্ষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণকরার লক্ষ্যে সূর্যকে মানদণ্ড হিসেবে ধরে সৌরবর্ষ অথবা ফসলি বর্ষ হিসেবে এটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্রাট আকবরের শাসনকালে সৌরবর্ষ (বঙ্গাব্দ) ও চান্দ্রবর্ষকে (হিজরি) একক মাত্রায় নির্ধারণে সম্রাট আকবরের রাজজ্যোতিষী আমীর ফতে উল্লাহ সিরাজীর সু² হিসাব-নিকাশ বিবেচনায় শুভক্ষণ গণনার দিন হিসেবে পহেলা বৈশাখকে নববর্ষ উদ্যাপনের
দিন ধার্য করা হয়।
বাংলা নববর্ষের উৎপত্তি জানতে হলে আমাদের নিতে হবে ইতিহাসের আশ্রয়। ভারতত্ববিদ আল বিরুনী কিতাব’ উল হিন্দ’-এ (রচনাকাল আনুমানিক ১৩৩০ খ্রি:) ভারতবর্ষের যে সব অব্দের (শ্রীহর্ষাব্দ, বিক্রমাব্দ শকাব্দ, বলভাব্দ ও গুপ্তাব্দ) নাম উল্লেখ করেছেন তাতে বঙ্গাব্দ নেই। বঙ্গাব্দ চালু হয় এর অনেক পরে ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে। সম্রাট আকবরের রাজজ্যোতিষী আমীর ফতে উল্লাহ সিরাজীর প্রচেষ্টায় এই নতুন অব্দের প্রচলন হয়। আকবরের সিংহাসনে আরোহনের ২৫ দিন পর অর্থাৎ বুধবার ২৮ রবিউস সানি (১১ মার্চ) তারিখে ভুবন আলোককারী নতুন বর্ষের সূচনা হয়েছিল। এই দিনটি ছিল
পারসিক বছরের নওরোজ। আবার সৌরবর্ষের চেয়ে চান্দ্রবর্ষ ১০/১২ দিন কম হবার ফলে কৃষকদের কৃষিকাজ সংক্রান্ত কাজে দিনক্ষণের সঠিক হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধানে মোঘল সম্রাট আকবরের নির্দেশে আবুল ফজল ১৫৮৫ খ্রিষ্টাব্দে ফসলি সনের প্রবর্তন করেন যা বর্তমানে বাংলা সন হিসেবে প্রচলিত।
এতে ৯৬৩ হিজরী সনের মহররম মাসের ১ তারিখ থেকে বৈশাখী সনের প্রথম দিন গণনা শুরু হয়। অর্থাৎ হিজরি ৯৬৩ সনের ১লা মহররম এবং ১লা বৈশাখ ৯৬৩ একই দিন ছিল। অর্থাাৎ হিজরি ৯৬৩ সনের সাথেই বঙ্গাব্দ যুক্ত হতে থাকে। আর চান্দ্রমাসভিত্তিক হিজরি সন ১২/১২ দিন হওয়ায় হিজরি সনের তুলনায় বিগত কয়েকশত বছরে বঙ্গাব্দ বেশ কম। ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, বাংলা সন চালুর ভিত্তি হলো হিজরি সন। হিজরি সনের বর্তমান বয়স ১৪৪২ বছর। বাংলা সনও হিজরি সনের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ১৪ বছর। এই পার্থক্যের কারন হলো আরবি মাস কখানো ২৯ দিনে হয়ে থাকে।
এই পরিবর্তনের পরও প্রতি চার বছর অন্তর একদিন লিপইয়ার-এর হেরফের থেকে যায়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বহু ভাষাবিদ, গবেষক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে প্রধান করে পাকিস্তান আমলে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সাল হতে বাংলাদেশে প্রচলিত নতুন ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা হয়। এতে প্রতি ইংরেজি লিপইয়ার বর্ষের বাংলা ফাল্গুন মাসে একদিন যোগ করে সমস্যাটির বিজ্ঞানসম্মত সমাধান করা হয়।
ধারণা করা হয়, মোঘল সম্রাট আকবর পহেলা বৈশাখ থেকে অর্থবছর গণনার প্রথা প্রবর্তন করেছিলেন মূলত, রাজস্ব আহরণ তথা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে। পূর্বে চান্দ্রমাসের ভিত্তিতে প্রচলিত হিজরী সন এবং সৌরবর্ষ গণনার পদ্ধতি প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় ও সাযুজ্য সাধনের তাৎপর্য ও যৌক্তিকতাকে বিচার-বিশ্লেষণের ভার তিনি তাঁর নবরত্ন সভার সবচেয়ে বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ সদস্য মশহুর ইতিহাসবেত্তা আবুল ফজল (১৫৫১ – ১৬০২) এবং অর্থ ও রাজস্ব বিষরক সদস্য রাজা টোডরমলকে অর্পণ করেছিলেন। তাঁদের নির্দেশনায় আকবরের রাজজ্যোতিষী ফতে উল্লাহ সিরাজী যে সমন্বিত প্রস্তাব প্রণয়ন করেন, তার ভিত্তিতে ফসলি সন নামে নতুন বর্ষ গণনার রীতি প্রবর্তিত হয় ৫৯৪ হিজরী সনের জুলিয়ান ক্যালেন্ডার মোতাবেক ১৪ এপ্রিল সোমবার। প্রবর্তনের খ্রিষ্টীয় সন ১৫৮৪ হলেও ফসলি সনের প্রবর্তক সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের সন ১৫৫৬ থেকেই এর ভ‚তাপেক্ষ কার্যকারিতা প্রদান করা হয়। প্রজাদের উৎপাদিত ফসলের উপর কর বা রাজস্ব আরোপ এবং তা যথাসময়ে যথামৌসুমে সংগ্রহের সুবিধার্থেই মূলত: ফসলি সনের প্রবর্তন করা হয়।
১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর ভারতের শাসনক্ষমতা কোম্পানীর হাত থেকে খোদ ব্রিটিশ সরকারের হাতে চলে যায়। ওয়েস্ট মিনিস্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত ভারতে ব্রিটিশ সরকারের প্রথম বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে আইনসভায় পেশ করা হয় ৭ এপ্রিল ১৮৬০ সালে। অর্থবছরের ধারণাটি বাংলা সন অনুযায়ী রাখার পক্ষপাতি ছিলেন ভারতবর্ষের প্রথম অর্থমন্ত্রী জেমস উইলসন (১৮০৫ – ১৮৬০)। স্বনামধন্য ইকোনোমিস্ট পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, অভ্যন্তরীণ
রাজস্ব বিভাগের সচিব, অর্থ সচিব, ব্রিটিশ আইনসভার প্রভাবশালী সদস্য, ফ্রি ট্রেড আন্দোলনকর্মী, পেপার কারেন্সি প্রবর্তনের প্রবক্তা ছিলেন জেমস উইলসন। ভারতে ভাইসরয়দের কাউন্সিলে অর্থ-সদস্য (মন্ত্রী সমতুল্য) হিসেবে নিযুক্তি পেয়ে কলকাতায় যোগদান করেন ১৮৫৯ সালের ২৯ নভেম্বর।
ইতিহাস সচেতন বিচক্ষণ অর্থনীতিবিদ উইলসন ভারতের আর্থ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে ৭ এপ্রিল ১৮৬০ উপস্থাপিত ভারত সরকারের প্রথম বাজেট বক্তৃতা তেই ভারতে আধুনিক আয়কর পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন। প্রাচীন ভারতের মনুসংহিতা থেকে রাজস্ব আদায়ের সূত্র উল্লেখ করলেও তিনি মূলত ব্রিটেনের আয়কর আইনের কাঠামোয় এদেশে আয়কর আরোপের রূপরেখা দেন। এপ্রিল মাস থেকে তাঁর দেয়া বাজেট বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যায়যার সাথে স¤্রাট আকবরের প্রবর্তিত বাংলা সনের যৌক্তিক সাদৃশ্য উল্লেখযোগ্য।
কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয়, ভারতে ব্রিটিশ সরকারের প্রথম অর্থমন্ত্রী, ভারতে আধুনিক আয়কর পদ্ধতি প্রবর্তনের মাত্র তিন মাসের মাথায় ডিসেন্ট্রিতে ভুগে ১১ আগস্ট ১৮৬০ সনে কলকাতাতেই মারা যান। পরবর্তী ৪ বছর বাজেট উপস্থাপন করা হয় যথাক্রমে এপ্রিল, মে ও জুন মাসে। ১৮৬৫ সাল থেকে স্থায়ীভাবে আট বছর ১৩ এপ্রিল থেকে শুরুর বিধানটা কার্যকর হয়।
সম্রাট আকবর বাংলা নববর্ষ প্রচলন করলেও নববর্ষ পালনের ইতিহাস বহু পুরনো। সর্ব প্রথম নববর্ষ পালিত হয় মেসোপটেমিরায় ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে। খ্রিষ্টীয় নববর্ষ চালু হয় জুলিয়াস সিজারের সময় থেকে। রাশিয়া, চীন, ইরান ও স্পেনে নববর্ষ পালিত হতো ঘটা করে। মুসলিম শাসকদের হাত ধরে ইরানের নওরোজ ভারতবর্ষে আসে। মোঘল আমলে খুব জাঁকজমকপূর্ণভাবে নওরোজ উৎসব পালন করা হতো। এই নওরোজ উৎসবেই জাহাঙ্গীরের সঙ্গে নূরজাহানের প্রথম মন দেয়া-নেয়া হয়েছিল। তবে বাংলা নববর্ষ যেভাবেই আসুক না কেন এখন তা বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। তাই পহেলা বৈশাখ এলেই সব বাঙালির
প্রাণ বাংলা নববর্ষ বরণের আনন্দে আপনা আপনিই নেচে ওঠে। পহেলা বৈশাখ তাই পালিত হয় ব্যক্তিগত, ধর্মীয়, সাম্প্রদায়িক, শ্রেণিগত অবস্থানের উর্ধ্বে উঠে ‘মানুষ মানুষের জন্য- এই বিশ্বাসকে সমাজ জীবনের সর্বত্র-ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।
ওয়াহিদুল হক, সনজীদা খাতুন প্রমুখের অক্লান্তপ্রচেষ্টায় পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দাললদের রক্তচক্ষুউপেক্ষা করে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ পালনের সময় থেকে ছায়ানট প্রবর্তনায় রমনার বটমূলে যে পহেলা বৈশাখ শুরু হলো-তা আজ গ্রাম-বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। দেশের মানুষের কাছে অন্যান্য ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসগুলোর চেয়ে পহেলা বৈশাখ কম গুরুত্বপুর্ণ নয়।
তবে সামাজিক উৎসব হিসেবে নববর্ষ পালন শুরু হয় ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে। পঞ্চাশের দশকে লেখক-শিল্পী-মজলিস ও পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ নববর্ষ উপলক্ষ্যে ঘরোয়াভাবে আবৃতি, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও সাহিত্য সভার আয়োজন করত। সনজীদা খাতুনসহ অন্যান্যদের উদ্যোগে ছায়ানটের আয়োজনে কবিগুরুর ‘‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’’ গানটি দিয়ে বাংলা বছরের প্রথম দিন সকালে নববর্ষের আবাহন শুরু হয় রমনা অসশথ তলায় ১৯৬৫ সালে।
পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদী চেতনার পালে যতই হাওয়া লেগেছে ততই উৎসবমূখর হয়েছে নববর্ষের আয়োজন। পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধকরণসহ সাংস্কৃতিক নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করার পরও নববর্ষে লাগে নিত্য নতুন উদ্দীপনা। দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার পহেলা বৈশাখকে জাতীয় পার্বণ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ছায়ানট ছাড়াও রাজধানীতে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলা একাডেমি, চারুকলা ইনস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, নজরুল ইনন্সিটিউট, জাতীয় জাদুঘর, বুলবুল ললিতকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বাংলা নববর্ষকে মহাউৎসবে পরিনত করেছে। বর্তমানে পল্লীর নিভৃত কুটির হতে শুরু করে গ্রামগঞ্জ, জেলা শহর, বিভাগীয় শহর ও রাজধানী শহরের সর্বত্র উছলে পড়ে বাংলা নববর্ষ পালনের আনন্দ। বর্তমান সরকার নববর্ষ ভাতা চালু করে এ উৎসবে আরো প্রাণ সঞ্চার করে।
বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য হলো বাংলা বর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। আর বাঙালিদের কাছে বাংলা নববর্ষ বরণ হলো একটি প্রাণের উৎসব। বাংলা নববর্ষের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। ইউনেস্কো আমাদের পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক মুল্যবেধের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ^সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি প্রদান করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করে নববর্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা ও সাংস্কৃতিক সৌধের ভিত আরো সুদৃঢ় করুক, নববর্ষের উদার আলোয় ও মঙ্গলবার্তায়
জাতির ভাগ্যাকাশের সব অন্ধকার দূরীভ‚ত হোক, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গীবাদী অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটুক, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াক, এটাই হোক বাংলা নববর্ষ-১৪২৮ এর প্রত্যয়।


শিবলী সাদিক
অধ্যক্ষ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ
ধানমন্ডি, ঢাকা।
মোবাইল: ০১৭১৪০৪১৫০২, ০১৭১৩৪৯৩০৫২
ইমেইল: shiblyshadik15@gmail.com

Daffodil International College Teacher Blog(Alia Rawshan)

Status of English and its impact on in Bangladesh

।। Status of English and its impact on overall English Language Teaching (ELT) scenario in Bangladesh ।।

After the independence of Bangladesh in 1971, Bangla has been given priority in all domains of the society which causes a lack of English proficiency among the learner community. It also resulted in the demotion of English from the second language to a foreign language. Besides, a gap between policy and language practice still exists in Bangladesh. The policymakers do not have a clear and planned language policy.In the mid-nineties, Communicative Language Teaching (CLT)-based curriculum reform took place, replacing the traditional Grammar-Translation Method (GTM)-based language teaching, initially in secondary schools and later in all other levels. National Curriculum and Textbook Board (NCTB) had asked teachers to implement CLT curriculum without any well-planned contextual analysis on the possible difficulties that may arise. For example, teacher-centered classroom is a crucial feature in the classroom of Bangladesh, and students are not interested to communicate or to speak in English. At the same time, teachers are not also habituated to use English for communication or for interaction with the students. Since the English teachers do not have any clear understanding of the CLT curriculum, they express a mixed opinion about its implementation. Their belief and practice are not compatible to CLT, and for this reason, their understanding of the curriculum differs. In the primary and secondary English textbooks in Bangladesh, grammatical and vocabulary selections are given highest importance instead of communicative activities. There is almost no scope for the speaking and listening activities in English for Today textbook. Moreover, assessment tests and evaluation are not consistent with the goal of the national English curricula and the English language education policy that seeks to develop students’ communicative competence. Thus, it is evident that the test setters are under the compulsion of following the instruction of the policymakers.Nobody can deny the significance of English in Bangladesh. In order to meet the challenges of 21st century, English language proficiency is a must. However, for achieving the proficiency in English language, a special monitoring and contribution can be made to policy adaptation and implementation in the context of ELT in Bangladesh. Although the policymakers are often reluctant in admitting the problem, Bangladesh has remained unsuccessful in attaining self-reliance in English Language Teaching.Source: Rahman et al. (2019), English language teaching in Bangladesh today: Issues, outcomes and implications, https://doi.org/10.1186/s40468-019-0085-8